অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মন্ত্রিপরিষদে জায়গা হয়নি ডাকসুর সাবেক কোন ভিপি-জিএস’র

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) বলা হয় দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন ডাকসুর সাবেক নেতারা। দেশ স্বাধীনের পর থেকে প্রায় সবকটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও পদে অধিষ্ঠিত হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশ বিনির্মাণে। কিন্তু সম্প্রতি ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী ঘোষিত ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা পরিষদে ডাকসুর সাবেক কোন নেতার স্থান হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় লাভের পর এ বছরের ৭ জানুয়ারি শপথ নেন মন্ত্রিপরিষদের ৪৬ সদস্য। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের মন্ত্রী পরিষদে ডাকসুর কোন সাবেক নেতার স্থান হয়নি। শুধু তাই নয় সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদে থাকা সাবেক ডাকসু নেতারাও এবার বাদ পড়েছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন-১৯৬৩-৬৪ সালে ডাকসুর ভিপি ছিলেন তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা রাশেদ খান মেনন। একই বছর জিএস ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী মতিয়া চৌধুরী। আওয়ামী লীগের গত দফায় মহাজোটের অন্যতম দল বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন তিনি।

অন্যদিকে বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাকসুর তৎকালীন জিএস মতিয়া চৌধুরী ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে তিনিও বাদ পড়েছেন। ডাকসুর এ দু’জন সাবেক নেতাই একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বাধীনতা আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদের সদস্য ও জেষ্ঠ্য রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। গত মেয়াদেও তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রীপরিষদে স্থান হয়নি তাঁর।

এর বাইরে ১৯৮২ সালে ডাকসুর জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মহাজোটের অন্যতম নেতা জিয়াউদ্দিন বাবলু এবার মহাজোট থেকে মনোনয়নই পাননি। এরশাদ সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা ছাড়াও পরবর্তী সময়ে এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং পর্যটনমন্ত্রীও ছিলেন।

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ডাকসুর সাবেক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। এদের মধ্যে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তার শপথ নেয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.