অধিকার ও সত্যের পক্ষে

ডাকসু নির্বাচনের এটাই মুখ্য সময়

 এম এ আলিম খান ॥

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র ও সমাজ সার্বিকভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাগার। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক, জাতীয় মুক্তি ও স্বাধিকার আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী। আর যুগ যুগ ধরে সেই অকুতোভয় সৈনিকদের নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু। কালের আবর্তে আজ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। দ্বিতীয় সংসদ হিসেবে পরিচিত ডাকসু এখন ঐতিহ্যের কঙ্কাল। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারক বাহক ডাকসু গত ২৮ বছর ধরে অকার্যকর হয়ে আছে।

বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডাকসু বা ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের অংশ।বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী সিনেটের ১০৪ সদস্যের মধ্যে ডাকসু থেকে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে ছাত্র স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করেন এই প্রতিনিধিরা। ডাকসু নির্বাচন নেই বলে এই নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিও নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অজানাই থেকে যাচ্ছে। আবার অনেক দাবি বাস্তবায়ন, গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

“বাঙালির গৌরবের ইতিহাস নিয়ে আকাশপানে তাকিয়ে আছে ডাকসু ভবন,
অর্থশূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মধুর ক্যান্টিন
কি এক আশ্চর্য ভঙ্গি অপরাজেয় বাংলার
ভালো করে খেয়াল করলে যে কারো চোখে ধরা পড়বে ক্রোধ আর বেদনার মিশ্র যন্ত্রনা,
কিছু সংখ্যক মানুষ এসবের ভাষা বোঝেন না।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৪ সালে। ১৯২৪-২৫ সালে প্রথম ডাকসুর ভিপি মনোনীত করা হয়। ডাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এর আগে ভিপি মনোনীত ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ডাকসু গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।

রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। সে বছর ৬ জুন ডাকসু ও ১৮টি আবাসিক হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নিয়মিত নির্বাচন হলেও ডাকসু নির্বাচন দেয়া হয়নি।জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফরম ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করাই ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।গেল বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় মার্চ মাসে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সভাপতি-সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে মতবিনিময় করে। ৩১ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের হলভিত্তিক ডাটাবেজ প্রকাশ করাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চমৎকার উদ্যোগ করেছে।

ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছেন আপিল বিভাগ। আশা করি,জানুয়ারিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে পরিবেশ সংসদকে সক্রিয় করবে। সব সক্রিয় ছাত্র সংগঠন অংশ নেবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বাস্তবায়নসহ আগামীতে দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশ দক্ষ ও যোগ্য রাজনীতিবিদদের দেখা পাবে এটিই প্রত্যাশা।

লেখক: ‍শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.