অধিকার ও সত্যের পক্ষে

সরকারি স্কুলে ২৭ খাত দেখিয়ে মোটা অংকের টাকায় ভর্তি

বরিশাল

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বরিশালে বিনামূল্যের বই পেতে ভর্তি বাবদ শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে ২ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। নগরীর স্কুলগুলোতে ২৭টিরও বেশি খাত দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বছরের প্রথম দিকেই নির্ধারিত টাকা দিতে না পারলে ভর্তি নিচ্ছে না বিদ্যালয়গুলো। আর ভর্তি হতে না পারলে মিলছে না সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই। স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক বেঁধে দেয়া টাকায় সন্তানদের ভর্তি করাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জগদ্বীশ স্বারস্বত বালিকা বিদ্যালয়, মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অক্সফোর্ড মিশন বিদ্যালয়, নগর সংলগ্ন পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ অপর বিদ্যালয়গুলোতে সর্বনিম্ন দু’ হাজার করে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে ভর্তিতে। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ভর্তির টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন ।

অভিভাবকদের ভাষ্য মতে, তারা অর্থ কষ্টে ছেলে-মেয়েদের কোচিং সহ বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। ফলে সরকারী স্কুলগুলোর ভর্তি যুদ্ধে টেকাও সম্ভব হয় না। সরকার বিদ্যালয়গুলোতে বিনামূল্যে বই দিচ্ছেন তাই ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় তারাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের নির্ধারিত রশিদে টাকা জমা না দেয়া পর্যন্ত ভর্তি নিচ্ছে না। আর ভর্তি না হলে বইও দিচ্ছে না। অভিভাবকরা জানান বিনামূল্যের বই জোগাড় করলেও তাতে কোনো লাভ নেই কেননা যে কোনো স্কুলে ভতি হতে টাকা গুনতেই হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব বিদ্যালয়ের বেতন আদায়ের রশিদে ২৭ ধরনের খাত দেখিয়ে সর্বমোট ২ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা লিখে অভিভাবকদের ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে বিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে ভর্তি করাতে পারলেও অনেকেই টাকা কমানোর জন্য ধর্না দিচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। বিদ্যালয়ের সভাপতিরা উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষরা তাদের ধারে কাছেও যেতে পারছেন না। তারা বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে আলোচনার জন্য যেতে চাইলে তাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ ইউনুস জানান, নগরীর বিদ্যালয়গুলোতে ম্যানেজিং কমিটিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক সহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন। এসব বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটিকে শিক্ষাবোর্ড থেকে বার বার সামঞ্জস্য রেখে ভর্তি ফি আদায় করার জন্য বলা হয়েছে। অসহায়, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি ভর্তিতে বিশেষ খেয়াল রাখতেও বলা হয়েছে। অনেক ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা মানছে না। প্রভাবশালীরা কমিটিতে থাকায় এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।

জগদ্বীশ স্বারসত বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান। সভাপতি হলেও ভর্তি ফি কত টাকা ধার্য্য করা হয়েছে তা জানেন না তিনি। তবে নিয়ম নীতির বাইরে কোনো টাকা নেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম জানান, প্রায় ১২শ’ শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে ভর্তি বাবদ প্রায় ২২শ’ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তবে পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়ে আরো বেশি নেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নগরীর প্রায় ১৮শ’ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম ফখরুজ্জামান জানান, জানুয়ারী মাসের বেতন ও একটি সোয়েটার সহ তিন হাজার টাকা ভর্তি বাবদ নেয়া হচ্ছে। তবে ভর্তি না হলে বই পাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে বলেন গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য তারা কম টাকায়ও ভর্তি করে থাকেন।

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.