অধিকার ও সত্যের পক্ষে

কারিগরি বিষয় ছাড়াই কারিগরির উচ্চ বিদ্যালয়!

 নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে কারিগরি বিষয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা কারিগরি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে শুধু নামেই কারিগরি বিদ্যালয়। এছাড়া বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকট, অবকাঠামো সংস্কারের অভাবসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।

বিদ্যালয়ের অফিস সূত্রে জানা যায়, কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য ১৯৬৫ সালে চৌমুহনী শহরের চৌরাস্তা সংলগ্ন স্থানে সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। স্থাপনকালে উক্ত বিদ্যালয়কে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ বিষয় ছাড়াও হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণের জন্য কাঠের কাজ, লৌহার কাজ ও জ্যামিতিক ও কারিগরি অংকন বিষয় চালু ছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে উক্ত বিদ্যালয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ক্যাম্প এবং টর্চার সেল স্থাপন করে। ঐ সময় বিদ্যালয়ে অনেক ক্ষতি হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছানা উল্যা জানান, কারিগরি বিষয়সহ সকল বিষয় নিয়মিত ক্লাস চলা অবস্থায় ২০০১ সালের পর থেকে কারিগরি বিষয়ের শিক্ষক শূন্যতা সৃষ্টি হয় এবং ২০০৫ সালে কারিগরি বিষয়ের সর্বশেষ ব্যাচ পরীক্ষা দেয়। এরপর থেকে কারিগরি বিষয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে বিশালাকার সি টাইপের কর্মশালা ছিল তা অযত্ন অবহেলার কারণে দরজা জানালা ভেঙ্গে গেছে। ভবনের আস্তরণ ঝরে পড়ছে। যন্ত্রপাতিও অনেক খোয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের আবাসনের ব্যবস্থা নেই। প্রধান শিক্ষকের আবাসনের যে ভবন রয়েছে, তাতে বাস করা যায় না অনেক বছর থেকে। অবশ্য ছাত্রাবাস রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর সংস্কার নেই। দেয়াল ও ছাদের আস্তরণ ঝরে পড়ছে। এর মধ্যেও কয়েকজন শিক্ষক ছাত্রাবাসে থাকে। বিদ্যালয়ের উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী না থাকায় দাপ্তরিক কাজে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষক ২৫ জনের স্থলে ২০ জন থাকলেও কোন রকমে পাঠদানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আবাসন সংকটের কারণে অনেক শিক্ষক অন্যত্র বদলী হয়ে যায়।

তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে সীমানা দেওয়াল নেই। বাকী তিন দিকে সীমানা দেওয়াল থাকলেও নিচু বিধায় বহিরাগত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীরা দেওয়াল টপকিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে চলেছে। বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচু নিচু গর্তে ভর্তি। এতে কোন প্রকার খেলাধুলা করা অসম্ভব। তাছাড়া সরকারি অনেক অনুষ্ঠান এ মাঠেই হয়ে থাকে। অথচ কেউ এ দিকে নজর দিচ্ছে না।

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.