অধিকার ও সত্যের পক্ষে

যে কারণে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি জরুরি

ধর্ম ডেস্ক ||

শুধু মসলিমদের মাঝেই নয়, বরং মানব সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গোটা দুনিয়ার মানুষের মাঝে পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি থাকাই বাঞ্ছনীয়।

যে কোনো কাজ, অনুষ্ঠান ও উৎসবে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতি না থাকলে বড় ধরনের অন্যায় ও অনিয়ম ঘটে থাকে। যা সমাজ ও জাতির জন্য মারাত্মক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে বসবাসরত মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ কারণে সার্বিক শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতি কুরআন ও হাদিসে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অনেক আয়াত ও হাদিসে সংঘাত পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পারস্পরিক সহাবস্থানের নসিহত ও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
‘তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় দান-খয়রাত, সৎকাজ ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যেই আমি মহা পুরস্কার দেব।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১১৪)

সুন্দর ও নিরাপদ সহাবস্থানের জন্য পারস্পরিক শান্তি ও সম্প্রীতির বিকল্প নেই। এ আয়াতে কারিমায় ৩টি কাজকে উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি স্থাপন।

পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি স্থাপন ‘আমর বিল মারুফ’ অর্থাৎ সৎ কাজের আদেশের অন্তর্ভূক্ত হলেও এখানে আলাদা আয়াত নাজিল করে তার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে।

 সমাজে উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র কিংবা প্রভাবশালী-দুর্বলদের মাঝে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি স্থাপনে যারাই উদ্যোগী হবে কিংবা তা বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে তাদের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে রয়েছে বিরাট পুস্কার। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি ঘোষণা করেন-
তোমরা মুসলিমগণকে পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি দেহের ন্যায় দেখতে পাবে। দেহের কোনো অঙ্গ যদি অসুস্থ বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে, তাহলে দেহের অপর অঙ্গগুলোও জ্বর বা নিদ্রাহীনতা তথা অশান্তিসহ অন্যান্য সমস্যার তার ডাকে সাড়াদেয়।’ (মিশকাত)

সুতরাং যে কোনো উৎসব ও আয়োজন উপলক্ষ্যে কিংবা যে কোনো অবস্থার পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পারস্পরিক সহাবস্থান তৈরিতে কুরআন সুন্নাহর নির্দেশনা পালনের বিকল্প নেই। কেননা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রতি রক্ষাকারীদেরকে জন্য রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের মহা পুরস্কারের ঘোষণা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন সুন্নাহর নির্দেশ ও নসিহত মেনে সমাজে পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি তৈরিতে নিজেদের নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। যে কোনো পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ ও সংঘাত থেকে নিজেদের বিরত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.