website page counter ঐশী এবার পড়াশোনায় মন দেবেন – শিক্ষাবার্তা

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬

ঐশী এবার পড়াশোনায় মন দেবেন

মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার ৬৮তম আসর শেষ করে দেশে ফিরেছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশী। গুয়াংজু বিমানবন্দরে ১০ ঘণ্টা ট্রানজিট শেষে গতকাল সোমবার ঐশী যখন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান, ঘড়িতে তখন রাত ১১টা। দেশে ফিরে আজ মঙ্গলবার সকালে  কথা বলেন তিনি। জানিয়েছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা আর নিজেকে নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা।

অল্প কথায় শুনতে চাই, মিস ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
অসাধারণ! সারা জীবন মনে রাখার মতো।

চীনের সানাইয়া শহরে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ক্যাম্পে যখন যান, তখন ভেবেছিলেন সেরা ত্রিশে জায়গা পাবেন?
যতটা জানতে পেরেছি, গত বছর ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেরা ৪০ জন বাছাই করা হয়। এবার কিন্তু ভোটিংয়ের পাশাপাশি বিচারকদের সামনে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। যদিও তখন অনেক নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছি।

নার্ভাস হয়েও গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত!
নার্ভাস হলেও আমি কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। নার্ভাস ছিলাম কারণ, হেড টু হেড বিভাগে আমার প্রতিপক্ষ ছিল নাইজেরিয়ার, তিনি একজন সায়েন্টিস্ট। সেদিক থেকে মনে হচ্ছিল, আমি মাত্র এইচএসসি পাস করেছি, ১৮ বছর বয়স। কী জানি, কী হয়। দেখলাম, মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগীদের সহজাত ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি মঞ্চে পুরোটা সময় স্বাভাবিক ছিলাম। হেড টু হেড বিভাগে প্রতিটি আয়োজক প্রতিষ্ঠান তাদের দেশের প্রতিযোগীদের প্রস্তুত করে দেয়। কী বলতে হবে, কী করতে হবে—এসব। আমি যখন মঞ্চে উঠেছি, কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। কী করতে হবে, কী বলতে হবে—তাৎক্ষণিকভাবে যা মনে আসত, তা-ই বলতাম। আমার কিছুই স্ক্রিপ্টেড ছিল না।

এত কিছুর পর ভেবেছিলেন হেড টু হেড পার হতে পারবেন?
আশা তো অবশ্যই ছিল। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছি, কিছু একটা করে তবেই দেশে ফিরব, এমনটাই স্বপ্ন ছিল। আমি পেরেছি। যদিও আশা আরও বেশি ছিল।

সেই বেশি আশা পূরণ হয়নি। কী কম ছিল?
আমি জানি না। ওখানে সবাই যথেষ্ট যোগ্য। সবচেয়ে স্ট্রং প্রতিযোগিতা ছিল এশিয়ানদের মধ্যে। কারণ, অন্য মহাদেশে মাত্র দুই থেকে তিনজন ছিল প্রতিযোগী ছিল। আর এশিয়া থেকে ছিল ১২ জন। প্রত্যেকেই অনেক স্ট্রং।

আপনার বড় প্রতিপক্ষ কে ছিল?
প্রত্যেকেই আমার প্রতিযোগী, আবার প্রত্যেককে আমার বোন ভাবতাম। তবে এটাও ঠিক, দিন শেষে সবাই কিন্তু প্রতিযোগী।

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ ভ্যানেসা আপনার থেকে কোন দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন?
১১৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ডের এবারের আসরে। তার মানে এই নয় যে ভ্যানেসাই সবচেয়ে ভালো ছিল, আর কেউ না। এখানে অনেক যোগ্য মেয়ে ছিল। তবে ভ্যানেসা যেমন যোগ্য ছিল, তেমনি ও খুব ভালো মানুষ। ওর সঙ্গে প্রায়ই আমার গল্প হতো। গল্পের সময় টের পেতাম, আশপাশে ইতিবাচক ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার দারুণ ক্ষমতা ওর মধ্যে আছে। সব সময় আমার দেশ নিয়ে গল্প করতাম। তাই ও বলেছে, তোমার কথা শুনে বাংলাদেশে যেতে ইচ্ছে করছে। আমাকেও অনেক উৎসাহ দিত, অনুপ্রাণিত করত। আমার ১৮ বছর বয়স, আর ভ্যানেসার ২৬ বছর। বয়স আর এর সঙ্গে অভিজ্ঞতারও একটা বিষয় আছে। প্রতিযোগিতায় সবার মধ্যে দাঁড়ালে একটা কথাই শুনতাম, আমি নাকি ১৪-১৫ বছরের মেয়ে।

এর জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা পেয়েছেন?
পুরো প্রতিযোগিতায় আমিই ছিলাম বয়সে সবার ছোট। তবে আমিই মনে হয় সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছি। প্রতিযোগীদের বলতে শুনেছি, আয়োজকেরা আমাকে বেশি খেয়াল করছে।

আপনার রুমমেট কে ছিলেন?
মিস নেপাল শৃঙ্খলা খাড়িওয়া।

ভোটিংয়ে দেখা গেছে, মিস নেপালের সম্ভাবনা বেশি।
অনেকে তেমনটাই মনে করেছে। কারণ, এবারের আসরে ভোটে মিস নেপাল এগিয়ে ছিল। শুনেছি, মিস ওয়ার্ল্ডের ইতিহাসে নাকি এটি সর্বোচ্চ ভোট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাকি ওর থেকে বেশি আলোচিত আর কেউ ছিল না। তবে শুধু ভোটিংয়ের ওপর তো আর সবকিছু হয় না, বিচারকদেরও একটা ব্যাপার ছিল। মেধা, যোগ্যতার পাশাপাশি মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ একজন ভালো মনের মানুষ খোঁজেন। সে কারণেই ভ্যানেসা এগিয়ে যায়।

ভ্যানেসা আপনার কাছ থেকেই বাংলাদেশের কথা প্রথম শোনেন?
আগে জানত, বাংলাদেশ নামে একটা দেশ আছে। আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে খুঁটিনাটি অনেক কিছু জানিয়েছি। আমি ওকে বলেছি, তুমি যদি আমাদের দেশে আসো, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত ঘুরিয়ে দেখাব। আমার দেশের ক্রিকেট দলের বিশ্বে সুনাম আছে। ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান কিন্তু আমার দেশের। এটা জেনে সে খুব খুশি হয়েছে। আরও বলেছি, আমার দেশের মানুষ অসাধারণ মনের অধিকারী। আর আমার রুমমেট মিস নেপাল বাংলাদেশকে একটা প্রতিযোগী দেশ হিসেবে জানত। এ দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে ওর ধারণা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের ইতিহাস জানত না। আমি ওকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে ও অবাক হয়েছে। ভাষার ইতিহাসও বলেছি। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মাশরাফি আর তাসকিনের সম্পর্কে শৃঙ্খলার সঙ্গে গল্প করেছি।

ফিরে আসার পর সবচেয়ে বেশি কী মিস করেছেন?
গত এক মাসে ১১৮ জন প্রতিযোগী ছিলাম একটা পরিবার। প্রত্যেকের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে আমার। ক্যাম্প ছেড়ে আসার সময় সবার কথা ভেবে খারাপ লেগেছে। তবে সবচেয়ে বেশি মিস করেছি মানুসি দিদিকে?

কে?
মানুসি ছিল্লারকে। তাঁকে দিদি বলে ডাকতাম। হ্যাঁ, গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড মানুসি ছিল্লার। প্রতিযোগিতার শেষ ১৬ দিন আমি তাঁকে কাছে পেয়েছি। মানুসি দিদি এমনিতেই বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক জানেন। এখন আমার কারণে আরও বেশি জানেন। প্রতিযোগীরা বলত, মানুসি ছিল্লার তোমাকে বেশি আদর করে। আমার প্রতি মানুসির কেয়ারিং দেখে শৃঙ্খলা তো বলেই ফেলল, ‘ও শুধু তোমাকে পছন্দই করেন, খুব ভালোবাসে।’ সবাই আমাকে মানুসির ছোট বোন বলে ডাকত।

বয়সে আপনি সবার ছোট ছিলেন, উচ্চতায়ও তাই?
প্রতিযোগীদের কাছে মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের চাহিদা যা ছিল, আমার উচ্চতা তার চেয়ে একটু বেশি ছিল। তবে আমি যখন মিস নাইজেরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছি, তখন বুঝেছি আমি কতটা খাটো। তবে এটা ভেবে আবার সান্ত্বনা পেয়েছি, প্রতিযোগীদের মধ্যে পাঁচ–ছয়জন আমার চেয়েও খাটো ছিল।

মিস ওয়ার্ল্ড থেকে ফিরলেন, এখন নিজেকে নিয়ে কী ভাবনা?
পড়াশোনা করতে হবে। আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারিনি। কিছুদিনের মধ্যে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব। এরপর পড়াশোনায় মন দেব। সময় আর সুযোগ যদি পাই, তাহলে শোবিজে কাজ করব।

কোন বিষয় নিয়ে পড়তে চান?
ভেবেছিলাম মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিষয়ে পড়ব। এখন মনে হচ্ছে সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য কোনো বিষয়ে ভর্তি হব।

নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র, সিনেমা—কোনটার ব্যাপারে আগ্রহ আছে?
সব মাধ্যমে কাজ করতে চাই। সিনেমায়ও কাজ করব।

সিনেমায় ‘নায়ক’ হিসেবে কাকে চান?
সবাইকে বলতে শুনি, সিনেমায় নায়ক হিসেবে শাকিব খানকে চাই। আমার তেমন কোনো পছন্দ নেই। মানসম্মত একটা গল্প, একজন ভালো অভিনেতা আর ভালো পরিচালক হলেই কাজ করব। নাটকের ক্ষেত্রেও একই ভাবনা।

দেশে ফেরার পর বাবা-মা কী বলেছেন?
আমি যে গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত যেতে পেরেছি, তাতেই তাঁরা খুব খুশি। আমি খুব ভালো বাবা-মা পেয়েছি। আমার মা স্কুলশিক্ষিকা আর বাবা সমাজসেবক। তাঁদের অনুপ্রেরণায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। আমার একমাত্র বড় বোন, সেও আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। প্রথম আলো

শিক্ষা বার্তা-আ.আ.হ/মৃধা

এই বিভাগের আরও খবর