অধিকার ও সত্যের পক্ষে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রস্তুতিঃ বাংলা

 লুৎফা বেগম ||

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রস্তুতি

বাংলা

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা ।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ১৪ নম্বরে থাকবে রচনা। প্রশ্নে ৪টি রচনা (ইঙ্গিত/উপশিরোনামসহ) দেওয়া থাকবে। ১টির উত্তর দিতে হবে। মান ১০

রচনা

ক) বর্ষাকাল

ভূমিকা : এসেছে বরষা, এসেছে নবীন বরষা

গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন ভরসা।

ষড়ঋতুর বিচিত্র লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। এখানে একের পর এক ঋতু এসে প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপের পর প্রকৃতিকে নবজীবন দান করে বর্ষাকাল।

বর্ষার সময় ও আগমন : আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাসকে ‘বর্ষাকাল’ হিসেবে ধরা হয়। এ দেশে বর্ষার আগমন ঘটে অনেকটা মহাসমারোহে। গ্রীষ্মের খরতাপে জীবন যখন অবসন্ন, অসহ্য হয়ে ওঠে, তখনই দগ্ধ ধরণিকে স্নিগ্ধ করার জন্য দিগ্বিজয়ী যোদ্ধার বেশে আসে বর্ষা একটানা বৃষ্টি নিয়ে। কবির ভাষায়—

জল ঝরে জল ঝরে, সারা দিন সারা রাত

অফুরান নামতার বাদলের ধারাপাত

(শ্রাবণে : সুকুমার রায়)

বর্ষার বৈশিষ্ট্য : বর্ষার আকাশ প্রায়ই কালো মেঘে ঢাকা থাকে। বিদ্যুৎ চমকানো, কানে তালা লাগা প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গে ঝরঝর করে প্রবল বেগে বৃষ্টি হয় এ সময়। মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, বিল-ঝিল পানিতে ভরে যায়। এ ঋতুতে ছাতা ছাড়া বাইরে বের হওয়া যায় না। একটানা বৃষ্টিতে সূর্যের মুখও দেখা যায় না। গ্রামের বাড়িঘরের চারপাশও পানিতে ভরে ওঠে। এমন দিনে নদীতে খেয়া পারাপারও বন্ধ থাকে। তাইতো কবি বলেছেন—

বর্ষাকালে পল্লি ভাসে চতুর্দিকে বারি,

বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর দেয় না খেয়া পাড়ি।

বর্ষার প্রকৃতির রূপ : স্নান করে গাছপালা প্রাণ খোলা বরষায়,

নদী-নালা ঘোলা জল ভরে উঠে ভরসায়

(শ্রাবণে : সুকুমার রায়)

বর্ষার পানিতে গাছপালা, নদী-নালা থেকে শুরু করে রুক্ষ প্রকৃতি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রকৃতিতে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। গাছপালা, ঘাস, পাতার রং আরো সবুজ হয়ে ওঠে। আর ধানক্ষেতগুলো যেন হয়ে ওঠে সবুজের গালিচা। গাছে গাছে ফোটে হিজল, বেলি, কদম, কেয়া, মালতিসহ নাম না জানা ফুল। এ ঋতুতে আম-কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম, আমড়া, লটকন, তাল, আনারস, আতা, বাতাবি লেবু ইত্যাদি ফল পাওয়া যায়।

উপকারিতা : আমাদের কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষিকাজ বর্ষার ওপর নির্ভরশীল। এ সময়ে কৃষকরা ক্ষেতে বীজ বোনে, চারাগাছ তোলে এবং রোপণ করে। এ ঋতুতে নদী-নালা, খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। নদীর পানির সঙ্গে পলিমাটি এসে জমির উর্বরতা বাড়ায়। বর্ষায় আউশ ধান, পাট ও আখ কাটা হয়।

অপকারিতা : বর্ষার এত সব উপকারিতা সত্ত্বেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপকারিতাও রয়েছে। যেমন অতিবর্ষণে বন্যা হয়। ফলে লোকালয়, ঘরবাড়ি ভেসে যায়। এ সময় ম্যালেরিয়া জ্বর ও পানীয়জলের অসুবিধা হয়।

বর্ষায় যাতায়াত : বর্ষাকালে মাঠ-ঘাট, খাল-বিল, ডোবা-পুকুর সব পানিতে ডুবে যায়। তাই এ সময় গ্রামের মানুষ নৌকা বা কলার ভেলায় যাতায়াত করে। অধিক বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকায় পানি জমে যায়, ফলে জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।

উপসংহার : বর্ষা ঋতু আমাদের অন্ন জোগায়। যাবতীয় ফসল এ ঋতুর পানিতেই বেড়ে ওঠে। তাই কিছু অসুবিধা থাকলেও এ ঋতু আমাদের প্রিয় ঋতু।

খ) আমাদের বিদ্যালয়

ভূমিকা : আমাদের বিদ্যালয়ের নাম চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত। এ বিদ্যালয় থেকে যাঁরা পাস করেছেন পরবর্তীকালে তাঁরা দেশের শিক্ষা, রাজনীতি ও সমাজসেবার কাজে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। এককথায় এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস গৌরব মণ্ডিত।

অবস্থান : আমাদের চন্দ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জামালপুর জেলা শহরই অবস্থিত। বিদ্যালয়ের দুই পাশে দুটি জোড়া পুকুর ও একটি বড় দিঘি রয়েছে। দিঘির চারপাশে নারকেল ও সুপারিগাছের সারি বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আশপাশের গ্রামের ছেলে-মেয়েরাও এখানে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৫৮ সালে। এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ আমাদের সবার শিক্ষার ভিত্তি ভূমি।

বিদ্যালয় গৃহের বর্ণনা : আমাদের বিদ্যালয়টি বহু বছরের পুরনো হলেও দেখতে অনেক সুন্দর। আম, কাঁঠাল ও কাঠবাদামগাছের ছায়াঘেরা এটি একটি একতলা ভবন। ভবনটি সাদা রঙের। ভবনটির একদিকে শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষ ও পাঠাগার রয়েছে।

পাঠাগারে পাঠ্যপুস্তক, সহায়ক গ্রন্থ, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়ার বইসহ দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে পাঠাগারে গিয়ে পড়াশোনা করে। ভবনটির বাকি কক্ষগুলো আমাদের শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যালয়ের সামনে একটি বড় খেলার মাঠ ও শিক্ষকদের কক্ষের সামনে একটি ফুলবাগান রয়েছে, যা বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা : আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর থাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। এ বিদ্যালয়ে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক আছেন। শিক্ষকরা যত্নসহকারে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান।

 লেখাপড়ার পদ্ধতি : আমাদের বিদ্যালয়ে অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াও প্রতি সপ্তাহে এবং মাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ জন্য বিদ্যালয়ের ফলাফল অত্যন্ত ভালো। পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসই শুধু করে না, জিপিএ ৫ পেয়ে বিদ্যালয়ের গৌরবকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

খেলাধুলা ও বিনোদন : আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিবছর বার্ষিক মিলাদ-মাহফিল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাসফরেও নিয়ে যাওয়া হয়।

ছাত্রজীবনে বিদ্যালয়ের অবদান : প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই আমরা জীবনের শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা ও চরিত্র গঠনের পাঠ নিয়ে থাকি। এ সময় আমরা যা শিখি, পরবর্তী সময়ে তা আমাদের সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে। তাই ছাত্রজীবনে বিদ্যালয়ের, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবদান অপরিসীম।

বিদ্যালয়ের জন্য করণীয় : বিদ্যালয় আমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। তাই বিদ্যালয়ের জন্য আমাদেরও কিছু করণীয় আছে। আমরা বড় হয়ে বিদ্যালয়ের উন্নতিতে কাজ করব, যাতে চন্দ্রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

উপসংহার : আমাদের বিদ্যালয়টি জ্ঞান আহরণের জন্য একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা সব শিক্ষার্থী এর সার্বিক উন্নতি কামনা করি।

বিদ্যালয়ে প্রতিবছর বার্ষিক মিলাদ-মাহফিল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাসফরেও নিয়ে যাওয়া হয়

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.