অধিকার ও সত্যের পক্ষে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও নির্বাচনী ভাবনা

 সিরাজুল ইসলাম
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী যে সব উপজেলায় সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই, সে সকল উপজেলায় একটি করে সরকারি   স্কুল ও কলেজ করার ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী সরকারি স্কুল ও কলেজ বিহীন  প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের কাজ চূরান্ত বাস্তবায়নের পথে।
বর্তমান সরকারের আমলে এই পর্যন্ত প্রায় ৩০০ অধিক কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে এবং স্কুলের সংখ্যা প্রায় ১৫০ অধিক । বাকী গুলো প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশকে শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট শিক্ষাকে পৌছে দেওয়া।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পরিনত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ভিশন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিনত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ।শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষাকে যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌছে দেওয়া না যায়, তাহলে একটি জাতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা শিক্ষাকে সহজে ও সুলভে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট পৌছে দেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের চূরান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন, জাতীয়কৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা।
জাতীয়করণ একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া।অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্ন হতে প্রায় ৫-৬ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। কিন্তু বর্তমান সরকারের ডিজিটালাইজেশনের কারনে অনেক সময় কমে এসেছে। প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পাশাপাশি যদি শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণ দ্রুত সময়ে না করা যায়, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে, তাহলে এর পূর্ণ সুফল সরকার কতটুকু পাবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
সদ্য জাতীয়কৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার, প্রতিটি পরিবারের সাথে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৫ – ১০ জন ভোটার। সেই হিসাবে জাতীয়করণের সুফল ভোগী ভোটারের সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ৪ লক্ষের কাছাকাছি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা সমাজের অন্য লোকদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।বিশেষ করে একজন শিক্ষক সমাজের কমপক্ষে  আরো দশজন ভোটারকে সরকারের উন্নয়ন ও সুফল তুলে ধরতে সক্ষম। এতে প্রায় আরো ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটার প্রভাবিত হবে। তাহলে মোট ভোটারের সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ৮ লক্ষের কাছাকাছি। এতো গেল শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণের প্রভাব। যদি জাতীয়কৃত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের প্রতিটি পরিবারের ভোটারের কথা বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে মোট ভোটারের সংখ্যা কত দাড়ায় তা সহজে অনুমেয়।
আত্তীকৃত শিক্ষকরাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট পরিচালনার মুল দায়িত্ব পালন করবে।সরকার প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছে বটে, কিন্তু শিক্ষক কর্মচারী আত্তীকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যদি জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব শিক্ষক কর্মচারীর আত্তীকরণ সম্পর্ণ না হয়,  তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব নির্বাচনে পরার আশংকা থেকে যায়। যা সরকারি আর্থিক সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষক সমাজকে বিচলিত করতে পারে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা,  বিচক্ষণতা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও বিশ্ব দরবারে নিজেকে ও বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন। তাই আগামী জাতীয়  নির্বাচনের আগেই সদ্য জাতীয়কৃত  প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর আত্তীকরণ সুসম্পন্ন করে আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য উদাত্ত আহব্বান জানাই। জাতীয়করণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হোক, জনগন ও শিক্ষক কর্মচারীরা এর সুফল পান এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক ও গবেষক,
প্রভাষক, শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজ।
শ্রীপুর,  গাজীপুর।
একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.