অধিকার ও সত্যের পক্ষে

প্রেসক্লাবের খোলা আকাশের নিচে জাতির বিবেক মৃত্যুর প্রহর গুনছে

 এ এইচ এম সায়েদুজ্জামানঃ

প্রেসক্লাবে আমরন অনশনে থাকা একজন শিক্ষক বন্ধুবর ফোন করে বললো স্যার আগে বইতে পড়তাম লেখাপড়া করে যে গাড়ীঘোড়া চড়ে সে।কিন্ত বাস্তবতা লেখাপড়া করে যারা প্রেসক্লাবের খোলা আকাশের নিচে ধুকে ধুকে মরে তারা। স্যারের কথাটা শোনার পড় মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গেলো। বার বার ভেসে আসছে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন বিছিয়ে এতিমের মতো দিনের পর দিন থাকা শিক্ষকদের আর্তনাদ।

কোন কিছু গড়তে হলে , সৃষ্টি করতে হলে নাকি প্রয়োজন দক্ষ ও বিবেকবান কারিগরের। যাদের অবদানে পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করেছে অনেক সৃষ্টি। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকই তো গড়বে মানুষ। মহানবী (সা.) নিজে দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়ক, সেনানায়ক ধরনের কোন অভিপ্রায় প্রকাশ করেননি। তিনি বলেছেন “আমি শিক্ষক রূপে প্রেরিত হয়েছি।”শিক্ষক হচ্ছেন জাতির বিবেক, মানুষ গড়ার কারিগর।

পার্সিডেন রেন বলেছেন- “শিক্ষক শুধু খবরের উৎস বা ভাণ্ডার নন, কিংবা প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার তথ্য সংগ্রহকারী নন, শিক্ষক শিক্ষার্থীর বন্ধু, পরিচালক ও যোগ্য উপদেষ্টা, শিক্ষার্থীর মনের বিকাশ সাধনের সহায়ক তথা তাদের চরিত্র গঠনের নিয়ামক।”শিক্ষক হচ্ছে সমাজের দর্পন বা আলো।শিক্ষা দানের মহান ব্রত যার কাজ তাকেই শিক্ষক বলা হয়। শিক্ষকদের জাতি গঠনের কারিগর বলা হয়।

কেননা একজন আদর্শ শিক্ষকই পারেন তার অনুসারী দের জ্ঞান ও ন্যায় দীক্ষা দিতে। শিক্ষার্থীর মানবতাবোধ কে জাগ্রত করে একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান কে সার্থকই করে তোলেন না, পাশাপাশি দেশের উন্নয়নকে ত্বরাণ্বিত করেন। স্বীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন।

কিন্তু সেই শিক্ষকই যখন ছাত্রের অবিভাবকের হাতে শারীরিক লাঞ্চনার শিকার হন তখন আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করি এ কোন সমাজে আমরা বাস করছি ? সেই শিক্ষক দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে আর্তনাদ করে শুধুমাত্র আত্মসন্মান নিয়ে কোন রকম জীবনযাপনের জন্য। বছরের পর বছর বিনা বেতনে শিক্ষার আলো জালিয়ে যাচ্ছে অথচ নিজের ঘরে আলো নেই। অন্ধকারের বিভিশীকায় যখন দিশেহারা, পরিবার পরিজনের ধীক্কার আর সংসারের বোঝা বইতে না পারার যে অক্ষমতা সব কিছু বিবেচনায় যখন দিশেহারা তখন নিজের অস্থিত্বের সংগ্রামে প্রেসক্লাবের  খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে আর আমাদের সরকার মহাশয় না দেখার ভান করে বসে আছে। ৫ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী মনে করেন সরকার মহাশয়ের শুভবুদ্ধির উদয় হবে অচিরই। আমাদের প্রত্যাশা একই।

 লেখক- শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মী।

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.