অধিকার ও সত্যের পক্ষে

মুক্ত জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র বিন্দু হোক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়

 হামিদুর রহমানঃ

শিক্ষক হল সমাজের দর্পন, আদর্শের বাতিঘর। দেশ ও জাতি গঠনের হাতিয়ার, সমাজ পরিবর্তনের মূল স্রোতধারা। কিন্তু শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির চর্চায় স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বশাসনের মেজাজটি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের তলদেশে। জ্ঞানই ক্ষমতা।

কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকরা জ্ঞানকে ক্ষমতায় রূপান্তর করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা সমাজের বির্তকিতদের ছত্রছায়ায় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের পেছন পেছন ঘুরে ক্ষমতালাভের উদ্দেশ্যে নিজের অবস্থানকে শক্ত করতে শেষ যোগ্যতাটুকুও হারিয়ে ফেলছেন। সাম্প্রতিক অতীতে দোহারের কিছু স্কুল কলেজে আধিপত্যের লড়াইয়ে এই চিত্রেরই বর্হিপ্রকাশ দেখা যায়। এই চিত্র দেখে কবি শামসুর রাহমানের একটি কবিতার দুটি লাইন মনে পড়ে যায়-
‘প্রলয়ে হয়নি পলাতক, নিজস্ব ভূভাগে একরোখা,
এখনো দাঁড়িয়ে আছি; এ আমার এক ধরনের অহংকার।’

শিক্ষকদেরও কেউ কেউ এমন কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন, যাকে কেউ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণের জন্য উপযোগী মনে করবেন না। নিজস্ব গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা তথা উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য ছাত্রদেরই কেউ কেউ বেছে নিয়েছে বলির পাঁঠা হিসেবে। এরা কারা সেটা চিহ্নিত করা জরুরি। শিক্ষকদের জাতি গঠনের কারিগর বলা হয়। কেননা একজন আদর্শ শিক্ষকই পারেন তার অনুসারী দের জ্ঞান ও ন্যায় দীক্ষা দিতে।

শিক্ষার্থীর মানবতাবোধ কে জাগ্রত করে একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান কে সার্থকই করে তোলেন না, পাশাপাশি দেশের উন্নয়নকে ত্বরাণ্বিত করেন। স্বীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন।

ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানোই সভ্যতা, মুক্ত জ্ঞানচর্চার মূল কেন্দ্র বিন্দু হোক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক- কাতার প্রবাসী সংবাদিক, শিক্ষাবার্তা ডট কম।

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.