অধিকার ও সত্যের পক্ষে

প্রাথমিকের একশিফট বনাম দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়

শিক্ষা, বই পুস্তক সবই এক কিন্তু সময়ের ভিন্নতা লক্ষনীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একশিফট ও দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয় গুলোতে।
এক শিফটঃএক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয় গুলো শুরু হয় সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত। শিশু, ১ম ও ২য় শ্রেণির শিশুদের ১.১৫ টায় ছুটি হয়। আর ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ছেলে মেয়েদের ছুটি হয় বিকাল ৪.১৫ টায়। এখানে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির ছেলে মেয়েদের ৭ ঘন্টা ১৫ মিনিট বিদ্যালয়ে অবস্থান করতে হয়। এভাবে চলতে থাকে সপ্তাহে ৬ দিন বিরতী ছাড়াই একটার পর ক্লাস কার্যক্রম। যেখানে উন্নত স্কুল গুলোতে দৈনিক পাঠদানের সময় সূচী ৩/৪ ঘন্টা সর্বোচ্চ। সেখানে এক শিফটে পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি দিন একটানা একজন শিশু কি ভাবে ৭ ঘন্টা ১৫ মিনিট ক্লাস করবে ??? আরও লক্ষনীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যাচমেন্ট এলাকার সকল শিশু ভর্তি করানো হয় বাড়িতে গিয়ে খুঁজে খুঁজে। বেশীর ভাগ অসচ্ছল ও অসেচতন পরিবারের ছেলে মেয়েরাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে আসেন। তাদের আর কোন শিক্ষার সুযোগ না থাকায়। তারা অনেকেই দুপুরের খাবারতো দূরের কথা সকালের খাবারও না খেয়ে চলে আসে। কারন বাবা হয়তো মজুর খেটে বা ভ্যান রিক্সা চালিয়ে দুপুরের খাবার জোগাড় করবে। আর মাত্র ৩০ মিনিট টিফিন প্রদান করায় তারা অনেকেই বাড়িতে গিয়ে খেয়ে আসতে পারে না। তাই এখানে প্রায় অর্ধেকের বেশী ছেলে মেয়ের কপালে দুপুরের খাবার জোটেনা। বেলা ২.০০ টা বাজলে এরা এত বেশী ক্লান্ত হয়ে পড়ে যে, তাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। ওই সময় পাঠদান কতটা ফলপ্রসু আপনারাই ভাবুন।

দুই শিফটঃদুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয় গুলো একই সময়ে শুরু হয়। প্রাক প্রাথমিক, ১ম ও ২য় শ্রেণি ১২.০০ টায় ছুটি হয়। কিন্তু ৩য় থেকে ৫ম ১২ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৫ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের সমাপনী পরীক্ষায় ভাল করানোর জন্য ওই এক শিফটের মত সকাল ৯.০০ টায় বিদ্যালয়ে আনা হয়। আর ৩য় ও ৪র্থ ১২ টায় আসার কথা থাকলেও তারা সকাল ১০/১১ টার আগেই বিদ্যালয়ে আসতে লক্ষ করা যায়। বিদ্যালয়ে যখন তাদের আসতে শিক্ষকগণ নিশেধ করেন, তখন ঠিকই তারা চলে এসে বাজার দিয়ে ঘুরে বেড়ায় না হলে কোথাও খেলাধুলা করে বেড়ায়। তারা দুপুরের খাবারটা খেতে পারেনা। ফল শ্রুতিতে দেখা যায় এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে মতই পরিস্থিতি। তাদের খাবার আনতে বললে দেখা যায় অধিকাংশ রাজি হয় না। কারণ তাদের ভাত আনবে যে তরকারি দিয়া সেটা তার পরিবার বেশির ভাগ সময় জটাতে পারে না। এখানে ৩য় থেকে ৫ম এ ছেলে মেয়েরা ৪.১৫ মিনিট থাকার কথা থাকলেও প্রায় এক শিফটের মতই তারা বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন।
একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ৩ টা ক্লাস সফল ভাবে পরিচালনা করতে পারেন। তারপর সে যে ক্লাস গুলো পরিচালনা করেন তা তার ইচ্ছার বিরূদ্ধে দায়িত্ব পালনের জন্যই করে থাকেন। কারণ তার যে ৭/৮ টা ক্লাস প্রতিনিয়ত করাতে হবে। যেখানে সকল প্রকার উন্নত বিদ্যালয় গুলোতে ৯/১০ টায় শুরু হয়ে পাঠদান ৩/৪ ঘন্টা চলে। সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এতটা দীর্ঘ সময় কতটা যুক্তিযুক্ত। কথা হয়েছে অনেক সচ্ছল ও সচেতন অভিভাবকের সাথে, সেখান থেকে জানা যায় তারা তাদের ছেলে মেয়েদের এই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াতে নারাজ। তাছাড়া অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের টিফিনের সময় বাড়িতেও নিয়ে যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সফল শিক্ষা নিশ্চিত কল্পে উর্ধতন মহলের সদয় দৃষ্টি কামনা করি।

একই ধরনের আরও সংবাদ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.