২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে প্রথম বোধোদয় হয় দোলহার হোসেনের। হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছিলেন ‘স্বশিক্ষিত’। নির্বাচনে জেতার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রসঙ্গে হীনম্মন্যতায় ভুগতেন।
এরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, বয়স আর লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে আবার স্কুলে ভর্তি হবেন। রোববার একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ৪৫ বছর বয়সী দোলহার হোসেন রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ২০১৮ সালে ভবানীগঞ্জের আদর্শ টেকনিকেল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নবম শ্রেণির পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।
দোলহার হোসেনের বাড়ি পৌরসভার দানগাছি গ্রামে। পরিবারে আছে দুই সন্তান। যাদের মধ্যে একজন পড়াশোনা করছে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ছোটবেলায় পরিবারের অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি দোলহার হোসেন। এরপর নির্মাণশ্রমিকের কাজ শুরু করেন। ২০১৩ সালের দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন।
দোলহার হোসেন বলছিলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার অভাব বোধ করেন। বিভিন্ন সভা–সমাবেশে বক্তব্য দিতে হয়। এছাড়া মিশতে হয় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে।
যাদের বেশির ভাগই উচ্চশিক্ষিত। তাদের সঙ্গে মিশতে গিয়ে কাউন্সিলর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও আলাপচারিতার সময় নিজেকে ছোট মনে হতো। এসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েই পড়াশোনার প্রয়োজন বোধ করেন।
দোলহার হোসেন বলেন, ‘নতুন করে স্কুলে ভর্তি হলেও পেশা ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় নিয়মিত ক্লাস করতে পারিনি। তবে সুযোগ পেলে বাড়িতে পড়াশোনা করেছি। অনেক দিন পর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। ভালো ফল করতে পারলে স্নাতক পর্যন্ত পড়ার ইচ্ছা আছে।’
আদর্শ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ কেন্দ্রেই পরীক্ষা দিচ্ছেন দোলহার হোসেন। কারিগরি শিক্ষাপদ্ধতি অনুযায়ী এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরের বছর অংশ নিতে হবে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায়।
গত বুধবার সকালে ওই কেন্দ্রে গিয়ে অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজার্ভেশন’ বিষয়ে পরীক্ষা দিতে দেখা যায় দোলহার হোসেনকে।
কক্ষ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, একজন ভালো পরীক্ষার্থীর মতোই আচরণ করছেন দোলহার হোসেন। অন্য কারও সহযোগিতা নেননি এবং খারাপ কোনো আচরণও করেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল আলম বলেন, বছরখানেক আগে কাউন্সিলর নিজে কলেজে এসে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ দেখান। এই বয়সে এসে তার পড়াশোনার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ ও ৫৫ বছরের এক ইউপি সদস্য পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সচিব লিটন মিঞা বলেন, কাউন্সিলর দোলহার হোসেনের লেখাপড়ায় আগ্রহ দেখে অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন। সহকর্মীরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। লেখাপড়ার যে কোনো বয়স নেই তা কাউন্সিলর প্রমাণ করলেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল