বদলগাছী মহিলা কলেজে ২০০৫ সালে ডিগ্রি শাখা খোলা হয়। তখন ডিগ্রি শাখায় সরকারি নিয়োগ বিধি মোতাবেক ও কলেজ উন্নয়ন ফান্ডে মোটা অংকের টাকা ডোনেশন নিয়ে ১১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। উক্ত কলেজের ডিগ্রি শাখা খোলার দীর্ঘ প্রায় ১৪ বৎসর অতিবাহিত হলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত। সম্প্রতি এমপিওভুক্তিতে ও ডিগ্রি শাখা এমপিও না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী আগামী ৬ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন। এমন বিষয়টি শিক্ষকদের মাঝে জানা জানি হলে তাদের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির জন্য অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে বিভিন্ন সময়ে প্রদানকৃত মোট ৪৭ লক্ষ টাকা ফেরতের দাবি করে শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে সকল শিক্ষক শনিবার অধ্যক্ষর কক্ষে বৈঠকে বসে অধ্যক্ষর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন।
প্রায় ২ ঘণ্টা পর ক্ষুদ্ধ শিক্ষক ও অধ্যক্ষের দরকষাকষির মাধ্যমে অধ্যক্ষের নামীয় সোনালী ব্যাংক বদলগাছী শাখার একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে অধ্যক্ষকে বেলা ১টার সময় মুক্তি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, কলেজের ডিগ্রি শাখার শিক্ষকেরা তাকে কৌশলে অবরুদ্ধ করে ৪৭ লাখ টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিক আমি টাকা দিতে না পারায় শিক্ষক ফরাদ হোসেনের নেতৃত্বে সকল শিক্ষক আমাকে ব্যাপক চাপের মুখে ফেলে। আমি মান সম্মানের ভয়ে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর দেই। তারা আমার স্বাক্ষর করা ফাঁকা ব্যাংক চেকটি নিয়ে চলে যান।
তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে রোববার কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদারকে নিয়ে মিটিং করা হবে। সেখানে উক্ত শিক্ষকেরা আমার ফাঁকা চেকটি ফেরত দিতে চেয়েছেন।
শিক্ষক ফরাদ হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীকে অবরুদ্ধ বা তার কাছে থেকে ফাঁকা ব্যাংক চেক নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। খবর পেয়ে থানার ওসি তদন্ত আব্দুল মালেক ও এসআই আব্দুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরীর সাথে বিকেল ৩ টায় কলেজে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল