সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগপযোগী ও মানসম্মত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করছে। এরি ধারাবাহিকতায় ছাত্র ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান, স্কুল ফিডিং, রুটিন মেরামত বরাদ্দ, প্রাক প্রাথমিক বরাদ্দ, বিদ্যালয় পর্যায়ে কন্টিনজেন্সি প্রদান (সম্ভাব্য খরচের জন্য), পায়খানা মেরামত, ক্ষুদ্র মেরামত, মেজর মেরামত, প্রয়োজন ভিত্তিক মেরামত, SLIP (বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা) ইত্যাদি বাস্তবায়ন করছেন।
আর এ সব কর্মসূচীতে প্রধান শিক্ষক ও এস, এম, সি ’র সভাপতি মূখ্য ভুমিকা পালন করেন, কোন কোন জায়গায় দলীয় প্রভাবে সভাপতি নিজেই একক সিদ্ধান্ত নেন কিন্তু সরকার কর্তৃক এ সব বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি সৎ ব্যবহার হয় না (নাম মাত্র কাজ করে অর্থ লোপাট হয়)।
কন্টিনজেনন্সি ইংরেজী শব্দ যার অর্থ আকষ্মিক ঘটনা, সম্ভাব্য ঘটনা। কন্টিনজেনন্সি বরাদ্দ বিদ্যালয়ে আকষ্মিক বা সম্ভাব্য খরচের ব্যয়ভার বহন করার জন্য।
প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে সরকার কর্তৃক কন্টিনজেনন্সি শিক্ষক ছাত্র অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় যা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব নাম্বারে জমা প্রদান করা হয়। অনেক প্রধান শিক্ষক বরাদ্দকৃত কন্টিনজেনন্সি টাকার চেয়েও বেশি টাকা বিদ্যালয় পর্যায়ে ব্যয় করেন। আবার পক্ষান্তরে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় অনেক প্রধান শিক্ষক নিজস্ব হিসাব নাম্বারে জমাকৃত টাকা নিজের মনে করে তা উত্তোলনই করেন না।
বিদ্যালয়ে সম্ভাব্য খরচ যেমন ছোট খাট খরচ, চক ডাস্টার, কাগজ, কলম, সাবান, হারপিক, ঝাড়ু, পানির ট্যাপ, সুইচ, বৈদ্যতিক লাইট, চাবি তালা সহ টুকি টাকি খরচ যা কন্টিনেজেনন্সি থেকে ব্যয়ভার নির্বাহ করা সম্ভব কিন্তু তা না করে এসব ছোটখাট টুকিটাকি খরচ করার জন্য মেরামত বরাদ্দ বা স্লিপ বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকেন, কখন বরাদ্দ আসবে সে অপেক্ষায়?
বরাদ্দকৃত কন্টিনজেনন্সি টাকা বিদ্যালয়ের কি কি কাজে ব্যবহার করা যাবে তা মাঠ পর্যায়ের অনেক শিক্ষক জানেনই না তাই এ ব্যাপারে নির্দেশনা প্রয়োজন। নাকি বরাদ্দকৃত কন্টিনজেনন্সি টাকা কি শুধু প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য?
এমনকি কন্টিনজেন্সির টাকা প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব একাউন্টে জমা হওয়ার কারণে অনেক প্রধান শিক্ষক সেই টাকা উত্তোলন করেন না ফলে আকষ্মিক বা সম্ভাব্য খরচে গড়িমসি।
প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন অনেকাংশে ব্যহত হচ্ছে এর একটাই কারণ ‘সততার অভাব ও জোরালো মনিটরিং এর অভাব।’
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোন কাজ হয় না ভুয়া ভাউচার দিলে বিল উত্তোলন হয় ফলে সরকারের কাঙ্খিত লক্ষ্য পুরুণ হচ্ছে না।
তাই প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি অর্থ অপব্যবহার যেন না হয় সে দিকে জোরালো মনিটরিং ও জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করা আশু প্রয়োজন।
মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান
সহকারী শিক্ষক
ক্ষেতলাল,জয়পুরহাট।
(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল