জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কাজ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে ভাইভা দিতে পারেনি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে ভাইভা না দিতে পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেনীতে ভর্তির জন্যে লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভাইভা হওয়ার কথা ছিল ১১নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ৩ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর অনলাইনে বিষয় পছন্দ। ১১ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর স্ব স্ব অনুষদে সাক্ষাৎকার। ২০ নভেম্বর চুড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশ। ২৪ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম। ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তির সকল কার্যক্রম শেষ।
কিন্তু গত ৫ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে হলসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর ফলে ভর্তির সকল কার্যক্রমও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, ১১ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ভাইভা হওয়া কথা ছিল। কিন্তু পরে তা আর হয়নি। এতে আমরা খুব চিন্তিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্ট পছন্দের একটা ব্যাপার থাকে, এখানে ভাইভা হয়ে গেলে কিছুদিনের মধ্যেই আমরা জানতে পারতাম কোন সাবজেক্ট পেয়েছি। যদি পছন্দের সাবজেক্ট না পাই তবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব ভালোভাবে চেষ্টা করব। কিন্তু ভাইভা না হওয়াতে আমরা কিছুই জানতে পারছি না। আর চিন্তামুক্তও থাকতে পারছি না।
তাছাড়া আমাদের মধ্যে যাদের সিরিয়াল পিছনে তারা এখানে চান্স পাব কিনা জানিনা, অন্য কোথাও চান্স পেলে ভর্তি হয়ে থাকতে হবে,আবার এখানে চান্স পেলে এখানেই ভর্তি হবে। এ দিক দিয়ে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি ।
এদিকে সন্তানের অনিশ্চিত ভর্তি নিয়ে অভিভাবকরাও আছেন উদ্বিগ্ন। এমন একজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। লিখিত পরীক্ষায়ও পাস করেছে। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবজেক্ট বিবেচনা করেই সন্তানকে ভর্তি করাবেন। কিন্তু অনিশ্চিত ভর্তি কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ভর্তি নিয়েই অনিশ্চয়তায় পড়েছি , শিক্ষাকার্যক্রম না জানি কি অনিশ্চয়তায় পড়ে?
এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. আবু হাসান এডুকেশন বাংলাকে বলেন, বর্তামানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এজন্যে নির্ধারিত সময়ে ভাইভা হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত রাখা হয় । পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিবে তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত তিনমাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। এসময় আন্দোলনকারীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং উপাচার্যের বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখে।
৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিকে শান্ত করতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল