মাধ্যমিকের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবী

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা এসব দাবি জানান। ‘স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি’ এর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি মাধ্যমিক স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা সমিতি খুলনা অঞ্চল কমিটির সভাপতি মমতাজ খাতুন নেতৃত্ব দেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আয়োজক সংগঠনের মুখপাত্র ওমর ফারুক। আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক নেতা মুনিরুল ইসলাম মঞ্জু, কামরুন নাহার, আকরাম হোসেন, রিজবি হোসেন খান, শাহ নেওয়াজ সেতু, সালাউদ্দিন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক, দুর্নীতিমুক্ত ও শোষণমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ১৯৭৪ সালে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি এন্ট্রিপদ নবম গ্রেড ধরে একটি যৌক্তিক পদসোপানসহ স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন করা। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করে বেশ কয়েকবার আবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। যার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড মাধ্যমিক শিক্ষা তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি কলেজ, সরকারি কলেজ তদারকিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। তাই মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের কাজে গতি এবং বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মানসম্মত আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ‘স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা একান্ত প্রয়োজন।সংবাদ সম্মেলনে ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো- স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন। সহকারী শিক্ষকদের বিদ্যমান পদের আপগ্রেডেশন করে এন্ট্রিপদ নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
সরকারি কলেজের মতো চার স্তরীয় পদসোপান বাস্তবায়ন। দ্রুত দীর্ঘ দিনের বকেয়া টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেওয়া। বিভিন্ন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সম্মানিত সিনিয়র সহকর্মীদের ব্যাচ ভিত্তিক নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা। ২০১০ (অংশ) ও ২০১১ ব্যাচের সহকারী শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষকের শূন্য পদে পদোন্নতি।