আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বড় পরিবর্তন আসছে না

 নিউজ ডেস্ক।। 

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল হবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর। কাউন্সিল সামনে রেখে ১১টি উপকমিটি করে চলছে প্রস্তুতির কাজ। কয়েক দফায় অর্থ-উপকমিটির বৈঠক হয়েছে। চলছে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংশোধনের কাজ। গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে (নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায়) অনুষ্ঠিত হয় গঠনতন্ত্র ও ঘোষণা উপকমিটির বৈঠক। এতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র উপকমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাকসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এই কাউন্সিলের দলের কলেবর বা আকার না বাড়ানোর বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন। প্রস্তাবিত বিভাগ পদ্মা ও যমুনার কথা বিবেচনায় রেখে দলে দুটি সাংগঠনিক বিভাগ বাড়িয়ে মোট ১০টি বিভাগ করার বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সারাদেশ থেকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য অনলাইন প্ল্যাটফরম খুলেছে আওয়ামী লীগ। অনলাইনে আসা পরামর্শও আমলে নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছে।

কাউন্সিলের নানা বিষয়ে জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নানা কারণে চ্যালেঞ্জিং হবে। বিশ্ব মন্দা ও নির্বাচনের আগে কাউন্সিল করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণে এই কাউন্সিলে দলের বড় পরিবর্তন করার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য  বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির কয়েক নেতা প্রয়াত হয়েছেন। সেই জায়গা পূরণ করতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কয়েকজনকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা হতে পারে। এ ছাড়া বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে উপকমিটিগুলো ঢেলে সাজানো হবে। বিষয়ভিত্তিক উপকমিটির পদ সুনির্দিষ্ট করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কাউকে যোগ্য বলে ভাবছেন না দলের নেতারা। সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের তৃতীয়বারের মতো ফের সুযোগ পেতে পারেন, এমন আলোচনাও বেশ জোরোশোরেই আছে। আলোচনা আছে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধাণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও ড. হাছান মাহমুদের নামও।

শনিবার গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র উপকমিটির সভা চলাকালীন অন্য একটি সভায় যাওয়ার জন্য আগেই বের হন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভায় কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু নিয়ে চূড়ান্ত আলাপ হয়নি। এটি চূড়ান্ত আলোচনার জায়গাও নয়। সুতরাং এ বিষয়ে এখানে কিছু বলতে চাই না। তবে একটি বিষয় চূড়ান্ত, সেটি হলো কমিটি ৮১ সদস্যেরই হবে।’

সভা শেষে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র উপকমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র যুগোপযোগী করা। এ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতিকে আর্থসামাজিকসহ সব ক্ষেত্রে আমরা কী দিতে চাই, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সম্মেলনে আমরা আমাদের অর্জনগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরব। আজ আমরা গঠনতন্ত্র উপকমিটির সভায় প্রাথমিক আলোচনা করেছি। কীভাবে আমাদের গঠনতন্ত্র, আমাদের সংগঠন আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতে পারি, তার দায়িত্ব বণ্টন করেছি। সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, বিষয়গুলো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মিটিংয়ে সবাই তাদের মতামত লিখিতভাবে উপস্থাপন করবেন।’

তৃণমূল নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের জন্য মতামত চাওয়া হবে। এসব উদ্যোগ আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল করবে বলে মনে করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম  বলেন, ‘অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কথা হয়েছে, সামনে আরও কথা হবে, মতামত নেওয়া হবে, তারপর গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হবে। সম্মেলনের আগের দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

দুই বিভাগ বাড়ালে ৮১ সদস্য ঠিক রেখেই পদবিন্যাস করা হবে কিনা জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সেক্ষেত্রে দুটি সাংগঠনিক সম্পাদক, একটি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একটি প্রেসিডিয়াম পদ বাড়ানোর প্রস্তাব যেতে পারে। ’

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন হয় ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর। সেবার শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত হন।