কাল মধুমতি ও ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল সোমবার নড়াইলে দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতী সেতু ও নারায়ণগঞ্জে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবে।

সেতুটি কালনাঘাট থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব কমিয়ে দেবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলার মানুষ কম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে। সেতুটি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভ্রমণের সময় কমিয়ে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা ও নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে মধুমতী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ অঞ্চলের মানুষ এখন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ব্যবহার করে। যার অর্থ তারা যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ১০০ কিলোমিটার বেশি ভ্রমণ করে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি এশিয়ান হাইওয়ের একটি অংশ, যা রাজধানীকে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

২৭ দশমিক ১ মিটার চওড়া সেতুটিতে চারটি উচ্চগতির লেন ও দুটি সার্ভিস লেন রয়েছে। আছে ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড।

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম ওসমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। সেতুটি নারায়ণগঞ্জ শহরকে বন্দর উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
সেতুটি চালু হলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজতর হবে। এতে অর্থনীতি চাঙা হবে।

প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ বলেন, সেতুটি ১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলগামী যানবাহনের সময় বাঁচাবে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনের সময় বাঁচাবে। যানবাহনগুলো রাজধানীর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাইপাস করতে পারবে। রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জ শহরের ওপর চাপ কমবে। সেতুটির কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙা হবে।

সেতুটি পূর্বে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জকে পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এখন মোটরচালিত নৌযানই নদীর দুই পারের মানুষ ও অন্যান্য এলাকার জনসাধারণের পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

প্রকল্পটি ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, সেতু নির্মাণে ৬০৮ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৩ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এসেছে। ৩৪৫ দশমিক ২০ কোটি টাকা এসেছে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে।

ওয়াকওয়েসহ সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে। যার ৫টি নদীতে, ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে।

হাঁটার পথসহ সেতুটির প্রস্থ ২২ দশমিক ১৫ মিটার। সেতুতে ছয় লেনের টোল প্লাজা আছে। এ ছাড়া দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা হচ্ছে।