৭ দফা দাবিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারীদের আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুরঃ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরে নিজস্ব কম্পিউটার কেন্দ্র স্থাপন ও কম্পিউটার কেন্দ্রের জনবল নিয়োগ এবং কর্মচারীদের দপ্তর পূর্ণ বন্টন, পদোন্নতিসহ ৭ দফা  দাবিতে বোর্ডটির চেয়ারম্যানের নিকট স্বারকলিপি দিয়েছেন সাধারণ কর্মচারীরা। দাবি পূরণে এক মাসের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারিতে দেওয়া ৬০ জন কর্মচারী সাক্ষরিত এই স্বারকলিপিতে ৭ দফা দাবি উল্লেখ করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে  পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কর্মচারীদের ৭ দফা দাবিগুলো হলোঃ

  • দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব কম্পিউটার কেন্দ্র স্থাপন ও কম্পিউটার কেন্দ্রের জনবল নিয়োগ।
  • মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল ডিভিশনের মামলার রায়/ হাইকোর্টের মামলাসমূহ নিস্পত্তিকরণ ও বাস্তবায়ন।
  • কর্মচারীদের দপ্তর পূর্ণ বন্টন।
  • পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • সরকারী শূন্য পদে সেকশন অফিসারদের মধ্যে থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান।\
  • শিক্ষা বোর্ডের ভেঙ্গে যাওয়া প্রাচীর নির্মান।
  • শিক্ষা বোর্ডের অভ্যন্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা।

এই বিষয়ে গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ করতে চাননি স্বারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী কর্মচারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট এই দাবিগুলো মৌখিকভাবে জানিয়ে আসলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়েই আমরা স্বারকলিপি দিয়েছি। ঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো আমরা।

আরও পড়ুনঃ চা খরচ না পেলে শিক্ষকদের ফাইল ধরেন না শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী

তারা আরও বলেন, আমাদের দাবিগুলো খুবই পরিস্কার এবং যৌক্তিক। কারও ব্যক্তি স্বার্থে এখানে দাবিগুলো পেশ করা হয়নি। বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব কম্পিউটার কেন্দ্র নেই। দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারী পুনঃ দপ্তর বন্টন করতে বলা হলেও অদৃশ্য কারণে চেয়ারম্যান স্যার কর্মচারীদের বন্টন করছেন না। এছাড়া বোর্ডের ভেঙ্গে যাওয়া প্রাচীর নির্মান করা হয়নি। ইতিমধ্যে শিক্ষাবোর্ডের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বোর্ড তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

আরও পড়ুনঃ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারীর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

\জানতে চাইলে শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ করিম বাবু বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি পেশ করেছিলাম কিছু দাবি পূরণ হয়েছে কিছু হয়নি। স্বারকলিপি প্রদান করা কর্মচারীরাও আমার কাছে এসেছিল আমি তাদের এই দাবিগুলোর সাথে একমত। এই দাবিগুলোর দুই একটি বাদে আমাদের ১৩ দফার মধ্যে ছিল।

এক মাসের আলটিমেটামের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনে গেলে কর্মচারী ইউনিয়ন এই আন্দোলনে যোগ দেবেন কি’না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে কোন যৌক্তিক দাবির পক্ষে ইউনিয়ন একমত। আমরা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।

সাত দফা দাবির বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো; কামরুল ইসলাম এবং বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোঃ জহির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৩/২৩