৭৬৮ শিক্ষকের আর্তনাদ ৭ বছরেও মেলেনি বেতন

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ চাকরি করছেন দীর্ঘ ৭ বছর ধরে। কিন্তু মিলছে না বেতন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় শিক্ষকরা বেতন না পেলেও নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে যাচ্ছেন। অসহায় এই শিক্ষকরা একাধিকবার আর্জি জানিয়েও পাননি সুফল। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা চিঠি চালাচালি ও তথ্য সংগ্রহই করে যাচ্ছেন। সবশেষ এই ৭৬৮ শিক্ষকেরও তথ্য নিয়েছেন কিন্তু ফের তা আটকা পড়েছে দীর্ঘসূত্রীতায়।

ডিগ্রি পাস কোর্সের অনুমোদন ও শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় পরস্পরবিরোধী তথ্য যুক্ত থাকায় বাধে বিপত্তি। নিয়োগের শর্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালায় বলা আছে, স্নাতক (পাস) কোর্স চালুর জন্য বিষয়ভিত্তিক ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ২০১৮ সালে নতুন করে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সেখানে বলা হয়েছে, ডিগ্রি (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ ছাড়াও প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক বাংলা ২ জন, প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক ইংরেজি ২ জন, প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক তথ্যপ্রযুক্তি ২ জন, প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক ঐচ্ছিক বিষয় চালু থাকলে ২ জন হবে। এসব শিক্ষকই এমপিওভুক্তি হাবেন। দুই প্রতিষ্ঠানের বিপরীত অবস্থানের কারণে কলেজে ডিগ্রির ২ শিক্ষক এমপিওভুক্ত হলেও তৃতীয় শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না।

তবে জটিলতা কেটেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের।

এখন মাউশি থেকে ছাড়পত্র পেলেই সুগম হয় শিক্ষকদের বেতনপ্রাপ্তি। শিকক্ষকরা বলছেন, মাউশিতে আটকা ফাইল। মন্ত্রণালয়ে ফাইল যেতে পড়েছে দীর্ঘসূত্রীতায়। এরআগে শিক্ষকদের ছাত্র সংখ্যার জন্য চিঠি দেয়। দীর্ঘ কয়েক মাস চলে গলেও কোনো অগ্রগতি দেখছেন না। তথ্যও নেয়া হয়েছে বেতন না পাওয়া শিক্ষকদের। গত ৮ই মে মাউশি থেকে প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়, গর্ভনিং বডির মাধ্যমে ৭৭০ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪০৯ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিক্রমে ২০১৬ সাল পর্যন্ত গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত মোট ৭৬৮ জন শিক্ষককের বিপরীতে স্নাতক (পাস) স্তরে অধ্যয়নরত প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

শিক্ষকরা জানান, এই তথ্য কয়েক মাস আগেই পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও বিষয়টি এখনো ফাইলবন্দি অবস্থায় রয়েছে। জানা যায়, এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজের জনবল কাঠামো-২০১০ প্রকাশের পরে বিধি মোতাবেক সারা দেশে ৮৪১ জন তৃতীয় শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমানে কর্মরত ৭৬৮ জন। এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হলে সরকারের বার্ষিক ২৫ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় হবে।

তারা দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ডিগ্রির তৃতীয় শিক্ষকরা চাকরি করে যাচ্ছেন কিন্তু বেতন মিলছে না। কষ্টে দিন কাটাচ্ছি আমরা। দীর্ঘদিন ধরেই চিঠি চালাচালি চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের একজন শিক্ষক মো. জাহিদ মণ্ডল বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৭৬৮ জন ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকে আর চিঠি চালাচালি দেখতে চাই না। আমরা চাই এমপিও।

২০১৬ সালের পূর্বে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সারা দেশের ৭৬৮ জন্য শিক্ষক অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে কয়েক ধাপে মাউশিকে। মাউশি আবার প্রতিটি বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রতিটি কলেজের নিকট তথ্য নেয়। এইভাবে লাস্ট ছাত্র সংক্রান্ত টডলিস্ট চায়। এইসব তথ্য পাঠানোর পরেও এখন পর্যন্ত কোনো এমপিও’র খবর নেই। তাই উচ্চ মহলের নিকট আকুল আবেদন করেছেন এইসব শিক্ষক যাতে করে দ্রুত এমপিভুক্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খুব শিগগিরই এই শিক্ষকদের ফাইল ছেড়ে দেয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৬/০৮/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়