৫৮ শতাংশ শিক্ষক স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে

প্রকাশিত: ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ২০ জানুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্ক।।

দেশের ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চায়। ৭৬ শতাংশ অভিভাবক ও ৭৩ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। তবে ৫৮ শতাংশ শিক্ষক ও ৫২ শতাংশ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সতর্কতার সঙ্গে স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০২০-২১ সমীক্ষা অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল দুপুরে ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাকের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও এডুকেশন ওয়াচের প্রধান গবেষক ড. মনজুর আহমদ, গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, এডুকেশন ওয়াচের আহ্বায়ক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী প্রমুখ এতে অংশ নেন। গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, দূরশিক্ষণের (সংসদ টিভি, অনলাইন, রেডিও ও মোবাইল) মাধ্যমে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নেয়।

বাকি ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশ নেয়নি। যেসব শিক্ষার্থী দূরশিক্ষণ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশ ডিভাইসের অভাবে অংশ নিতে পারেনি। আর গ্রামীণ এলাকায় এই হার ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তাছাড়া অনলাইন ক্লাস আকর্ষণীয় না হওয়ায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িতে নিজে নিজে পড়ালেখা করেছে।

বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ৮০ শতাংশ এনজিও কর্মকর্তাও। এ ছাড়া ৮২ শতাংশ শিক্ষক স্কুল খুলে দেওয়ার আগে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আর ৯০ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস তৈরিতে অভিভাবকরা সচেতন করবেন। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে ৬২ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা দরকার। বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো হয়নি তা পড়াতে মত দিয়েছেন ১৫ শতাংশ শিক্ষক।

করোনায় প্রায় এক বছরে শিক্ষায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এতে বলা হয়, মহানগরের বাইরে গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলো খুলে দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া মার্চে মহানগরের স্কুলগুলো ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া যেতে পারে। খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ও পরে প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি খোলা যেতে পারে।

এরপর নিচের ক্লাস খোলা যেতে পারে। শিক্ষার ক্ষতি পুনরুদ্ধারে দুই বছরের পাঠ্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা, পরীক্ষার সময় কমিয়ে পাঠদানে অধিক সময় দেওয়া, প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাদ দিয়ে স্কুল পর্যায়েও পরীক্ষা কমিয়ে আনা, স্কুলে ছুটি কমিয়ে আনা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। বক্তব্যে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন- পরিবেশ, পরিস্থিতি ও সক্ষমতা বিবেচনা করে বিদ্যালয় খুলতে হবে।

কবে খোলা হবে, সে বিষয়ে দ্রুত ঘোষণা আসা উচিত। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিতে পারবে। আর এ জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.