৫৭% মাধ্যমিক শিক্ষার্থী অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকে

অনলাইন ডেস্ক।।

শ্রেণি শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রধান শিক্ষকেরা অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করেন। উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত ছিল। অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম গ্রহণ করেনি এমন বিদ্যালয় ছিল দুই শতাধিক, যার মধ্যে ১৭৯টি এমপিওভুক্ত। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী তাঁদের মূল বেতনের পুরোটাই সরকার থেকে পান। ২৯ শতাংশ বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসের শিক্ষার্থীর উপস্থিতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।

করোনাকালে সময়সূচি মেনে ক্লাস নিয়েছে ৮১ শতাংশ বিদ্যালয়। অনলাইনে মোট ৭০ হাজার ১৪২টি ক্লাস হয়। এর মধ্যে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া হয় ২১ হাজার ৯০৪টি। ব্ল্যাকবোর্ড বা হোয়াইট বোর্ড ব্যবহার করে ৪২ হাজারের বেশি ক্লাস নেওয়া হয়। আর ‘শিক্ষক বাতায়ন’–এর ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে ক্লাস নেওয়া হয় ১০ হাজারের বেশি। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ফেসবুক লাইভ ও জুম। এ ছাড়া ইউটিউব, গুগল মিট, মেসেঞ্জার, স্কাইপসহ অন্যান্য মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়েছে।

অনলাইনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি বলে মনে করেন মঙ্গলবার থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, এ জন্য ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (বিষয়ভিত্তিক নির্ধারিত বাড়ির কাজ) গ্রহণের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়।

করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে ‘এডুকেশন ওয়াচ’ নামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল গণসাক্ষরতা অভিযান। তাতে দেখা যায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৬৯ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন, টেলিভিশনের মতো মাধ্যমে দূরশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেয়নি।

অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাউশির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক কে এম এনামুল হক  বলেন, মফস্বল এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় অনলাইন ক্লাসের উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়। অনলাইন ক্লাসকে সচল রাখতে হলে সব শিক্ষার্থীর জন্য স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।