৫৩ মাসেও বিতরণ শেষ হয়নি ৯ কোটি স্মার্টকার্ড

প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, রবি, ৭ মার্চ ২১

অনলাইন ডেস্ক ||

উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরুর ৫৩ মাস অতিবাহিত হলো। অথচ এখনো সেই নয় কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড সরবরাহ সম্পন্ন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সেই সময়কার ৯ কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড দেওয়ার জন্য আইডিইএ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। এরপর ফরাসি কোম্পানি অবারথার টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্মার্টকার্ড সরবরাহের জন্য ১৮ মাসের চুক্তিতে যায় ইসি। আর বারবার সময় পরিবর্তন করে ২০১৬ সালে বিতরণে গেলেও সে কাজে এখনো গতি আনতে পারেনি সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫৩ মাসে বিতরণ হয়েছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ স্মার্টকার্ড। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সেই নয় কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড দিতে সময় লাগবে ৮০ মাস। অর্থাৎ আরও ২৭ মাস লেগে যাবে।

বর্তমানে ভোটার আছে ১১ কোটি ১৭ লাখ। এ ক্ষেত্রে ২০২১ পর্যন্ত যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের স্মার্টকার্ড সরবরাহ করতে সময় লাগার কথা ৯৯ মাস অর্থাৎ আরও ৪৬ মাসের মতো।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল নাগাদ আরও প্রায় চার কোটির মতো ভোটার যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ভোটারদেরও স্মার্টকার্ড দেবে ইসি। সেই হিসেবে এ সময়ের মধ্যে আরও প্রায় ১০ কোটির মতো স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণ করতে হবে। এদিক থেকে স্মার্টকার্ড বিতরণ ও ভোটার বৃদ্ধির হারের দৌড়ে উল্লেখ করার মতো পিছিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সেদিন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করেন তিনি।

এরপর ৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়। এক্ষে ত্রে রাজধানীর উত্তরা থানা, রমনা থানা এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার দাসিয়াছড়ায় এই কার্ড বিতরণ করা হয়। সে সময় দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন কুড়িগ্রামে গিয়ে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

এ বিষয়ে আইডিইএ (স্মার্টকার্ড) প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল কাদের বলেন, স্মার্টকার্ড উৎপাদনকারী ফরাসি কোম্পানি অবারথারের কাছ থেকে ৯ কোটি কার্ড পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা ৭ কোটির কিছু বেশি কার্ড পেয়েছিলাম। আরও দুই কোটি কার্ড আমাদের হাতে নেই। ২০২৫ সালের মধ্যে নিবন্ধিত সকল নাগরিককে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ৬ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার স্মার্টকার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬ কোটি ৩৩ লাখ কার্ড উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। আর বিতরণ হয়েছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ স্মার্টকার্ড। স্মার্টকার্ড উৎপাদন ও বিতরণ চলমান রয়েছে।

সূত্র : বাংলানিউজ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.