করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করার দাবী

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, শনি, ৫ জুন ২১

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত বাজেট আশাব্যঞ্জক হলেও বাস্তবায়নে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ এক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে যা বিসিআই স্বাগত জানায়। এই কমানোর ধারাবাহিকতা ন্যূনতম আগামী ৩ বাজেটে অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (এটি) ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এ আগাম কর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হয় চেম্বারের পক্ষ হতে। ৩ কোটি টাকার টার্নওভারে ন্যূনতম কর হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করায় ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করা হয়, টার্নওভারের ন্যূনতম হার ৪ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব করছি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় আগামী কর বছরের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেহেতু উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর প্রস্তাবিত কর হার পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়। কারণ কর আরোপ হলে দেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

বিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশের জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের এই আকার অবাস্তব নয়। দেশের অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাজেটের আকারও প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিসিআইয়ের প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড-১৯ জনিত কারণে কর্মহীনতা ও আয়-হ্রাস কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা কর্মসূচি প্রভৃতির আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে যা ইতিবাচক। বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে বলে বিসিআই মনে করে। প্রস্তাবতি বাজেটে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নজর দেওয়া হয়েছে। মানব সম্পদকে সার্বিকভাবে উন্নয়ন করা হলে স্বাভাবিকভাবে উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতিমালা সহজিকরণ করে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যা বিগত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হবে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয় চেম্বারে পক্ষ হতে। উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস স্থাপনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে বিসিআই, যার ফলে করের আওতা ও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে সংগ্রহ করবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে এ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমুদয় মূলধনি যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, বিসিআইয়ের পক্ষ হতে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূলধনি যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত ১ শতাংশের অতিরিক্ত সকল প্রকার শুল্ক-করাদি মওকুফ করার অনুরোধ জানিয়েছে বিসিআই।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.