৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ নেবেন আজ

প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ২০ জানুয়ারি ২১

অনলাইন ডেস্ক ||

আজবুধবার ২০ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিষিক্ত হচ্ছেন জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিষিক্ত হচ্ছেন জো বাইডেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা এ মাসের গোড়ার দিকে ক্যাপিটল হিলে সহিংস হামলার পর, আমেরিকানরা খারাপ সময় প্রত্যক্ষ করলেও প্রত্যাশায করছেন ঐক্যের। আর এটাই জো বাইডেনের অভিষেকের মূল বিষয়।

সহকর্মী মাইক ও’সুলিভান তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, প্রেসিডেন্ট এর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রতি চার বছর ব্যাপক সুরক্ষা বাবস্থা নেয়া হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পর থেকে ওয়াশিংটনে সামরিক উপস্থিতি আর কখনও দেখা যায়নি।

৬ই জানুয়ারি হিলে হামলার পর সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এরপর প্রতিনিধি পরিষদের সভায় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের জন্য অভিশংশিত করা হয়।

বাইডেনের উদ্বোধনী থিম হচ্ছে “আমেরিকা ইউনাইটেড”-একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য

অভিষেক উপলক্ষে ২৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ড ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রহরায় থাকছেন এবং থাকছেন অতিরিক্ত পুলিশ।

ক্যাপিটল পুলিশের প্রাক্তন প্রধান টেরেন্স গেইনার ভিওএ-কে বলেছেন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিরাপদ”এর জন্য পরিকল্পনা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। সিক্রেট সার্ভিস, এফবিআই এবং ক্যাপিটল পুলিশের পরিপূরক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় পাঁচ হাজার আইন প্রয়োগকারী অফিসারকে আনা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের উদ্বোধনটি সুচারুভাবে হবে। ”

নিরাপদ এবং সামাজিক দূরত্ব। অভিষেক উদযাপনের বেশিরভাগ অংশ ভার্চুয়াল হবে, টম হ্যাঙ্কস এর উপস্থাপনায়, লেডি গাগা এবং জেনিফার লোপেজ সংস্ক্রিতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গিক পরিবেশন করবেন।

ওয়াশিংটনের বেশিরভাগ অংশ বন্ধ থাকবে বুধবার। ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনে প্রবেশের বেশিরভাগ প্রবেশ পথ বন্ধ করা হয়েছে। যেগুলো খলা আছে তাতে সর্বক্ষণ প্রহরায় ন্যাশনাল গার্ড। ঠিকমত পরিচয় পরীক্ষার পর অনুমতি দেয়া হছে।

চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এই প্রেসিডেন্সিয়াল অভিষেক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার আমেরিকান ন্যাশনাল মলে জড়ো হন। করোনা মহামারির জন্য যেহেতু এ বছর কেউ আসছেন না সেজন্যে ৫০ টি রাজ্যের মানুষদের প্রতিনিধি হিসাবে মঙ্গলবার রাতে ন্যাশনাল মলে হাজার হাজার পতাক্যা টাঙ্গানো হয়েছে।

৬ই জানুয়ারির ঘটনা মাথায় রেখে অভিষেক উপলক্ষ্যে অন্যান্য রাজ্যেও সঘাতের আশংকা রয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত সুরক্ষার বাবস্থা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে তিন চতুর্থাংশ আমেরিকান আগামী দিনে সহিংসতার আশঙ্কা করছে। ক্যারোলিন বেরেসফোর্ড নামে একজন মহিলা বলেছেন যে রাজনীতিবিদরা প্রায়ই দেশের প্রয়োজনের প্রতি পরোয়া না করে উত্তেজনা ছড়ায়।

“আমি মনে করি লোকেরা যারা প্রতিনিধিত্ব করে বলে দাবি করে, তারা মূলত বিভেদ সৃষ্টি করে সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করে”

দুই ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট বন্ধু, রাজনৈতিকভাবে একমত নন, তবে তারা একটি বিষয়ে সম্মত। তা হচ্ছে আমেরিকানদের একত্রিত হওয়া দরকার।

উত্তরসূরি হিসাবে পাওয়া বাইডেনের চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে, যাচাই করা হয়নি এমন ভিডিওতে নতুন অস্ত্র তৈরির দাবী করেছে

অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে COVID সংক্রমণ, উচ্চ বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক বিভাজন অন্তর্ভুক্ত।
কলেজ অধ্যাপক আনোয়ার হক বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, আমরা এগিয়ে যেতে চাই”।
অনেকই এই কথাতেই বিশ্বাসী, বিভক্তি দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়া।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.