৩য় শ্রেণির কর্মচারী কর্তৃক অবরুদ্ধ ভিসি

অনলাইন ডেস্ক।।

চাকরি স্থায়ীকরণসহ ১৪ দফা দাবিতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেনকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তৃতীয় শ্রেণীর ২২ জন কর্মচারী। বুধবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা শুরু করেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভাইস চ্যান্সেলর অবরুদ্ধ রয়েছেন।

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি এসএম মাহফুজুর রহমান জানান, ২২ জন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী তিন বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করছেন। সম্প্রতি ১৫টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি ১৫টি পদের বিপরীতে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োজিত ২২ জনকে নিয়োগ প্রদান করা। কিন্তু উপাচার্য এ দাবি মানছেন না। তাই তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে বুধবার সকাল সোয়া ৯টা থেকে ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের সামনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ভাইস চ্যান্সেলরকে (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. ফরহাদ হোসেন জানান, ২০১৯ সালে তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর ২২ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে দুই দফায় ১৫টি পদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। ওই ১৫ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এ সময় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা ১৫ পদের বিপরীতে ২২ জনকে নিয়োগ দিতে দাবি তুলেন। তারা কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিও করছেন। এই দাবিতে বুধবার সকাল থেকে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতারা তাদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছেন। কিন্তু তারা তাদের দাবিতে অনড়।

ভাইস চ্যান্সেলর জানান, আরও ৭টি পদ বৃদ্ধির জন্য তিনি ইউজিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আরও ৭টি পদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তালাবন্ধ করে আটকে রেখে উপাচার্যের ব্যক্তি স্বাধীনতাহরণ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ শিক্ষকরা বৈঠক করছেন।

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।