২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ৩ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর

 নিজস্ব প্রতিবেদক।।

আগামীতে সরকার গঠন করলে ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে বৈঠকের অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

রুস্তম আলী ফরাজী তার প্রশ্নে আগামীতে সরকার গঠন করলে পরিকল্পনা কী হবে জানতে চান। শেখ হাসিনা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮: সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’-এ ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ২১০০ সালের ‘নিরাপদ ব-দ্বীপ’ পরিকল্পনার রূপরেখা প্রদান করা হয়েছিল। উন্নত বাংলাদেশের অভিযাত্রায় প্রথম ধাপ হিসেবে ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় আসীন হয়েছি। বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং মাথাপিছু গড় আয় হবে ৫৯০৬ ডলারের উপরে এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১২৫০০ ডলারের অধিক। বর্তমানে বাংলাদেশে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৫ এবং ২০২৫ সালে ৮.৫১, ২০৩১ সালে ৯.০ ও ২০৪১ সালে লক্ষ্যমাত্রা ৯.৯।

সংসদ নেতা বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের অবসান এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রশ্নোত্তরে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আমাদের ভিশন হবে ২০৪১ এর মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ। স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তি হবে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি; এ উদ্দেশ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এসবের মধ্যে রয়েছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন পরিচালনা ও বৃদ্ধি করা, ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলা, সড়ক, নৌ, রেল ও বিমানপথে যাতায়াতের গৃহীত সকল প্রকল্প সম্পন্ন করা, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ নিশ্চিত করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা,কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের উপর গুরুত্ব প্রদান করে কার্যক্রম গ্রহণ করা, ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন করে রফতানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন বাজার সন্ধান এবং বাংলাদেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ডিজিটাল ডিভাইসের নিজস্ব বাজার সম্প্রসারণ করা, মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা তৃণমূল পর্যন্ত নিশ্চিত করে সকল মানুষের জীবন মান উন্নত করা, প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তর করে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামী নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।