২য় ডোজ নিলে এন্টিবডি তৈরি হয় ৯৯শতাংশঃ গবেষণা

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, বুধ, ২২ সেপ্টেম্বর ২১

অনলাইন ডেস্ক।।

চট্টগ্রামে দুই ডোজ করোনা টিকা গ্রহণকারীদের প্রত্যেকের দেহে ৯৯ শতাংশের বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও প্রথম ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। করোনা টিকা না নিয়েও প্রাকৃতিকভাবে ৫০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তবে অন্যান্যদের তুলনায় তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। গত ৬ মাস ধরে টানা গবেষণা চালিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন একদল চিকিৎসক ও গবেষক।
এই বছরের মার্চ মাস থেকে ৭৪৬ জনের উপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ডোজ করোনা টিকা গ্রহণকারী ২৩১ জনের মধ্যে ৯৯.১৩ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।  অন্যদিকে প্রথম ডোজ নেওয়া ২২৩ জনের মধ্যে ৬২.৩৩ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
ওয়ান হেলথ ইনিস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ও পরিচালক ড. শারমিন চৌধুরী বলেন, যারা টিকা নেননি প্রাকৃকিতভাবে তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তাদের তুলনায় যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের শরীরে তিনগুণ বেশি অ্যান্টিবডি পেয়েছি। আর যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে পাঁচগুণ বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তারা অবশ্যই নিরাপদ থাকবেন। আমরা স্ট্যাডি করে দেখেছি- অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত অ্যান্টিবডির মাত্রা অনেক ভালো থাকে।
গবেষণায় তথ্য দেওয়া ২৯২ জন কোনো টিকা গ্রহণ করেননি। তাদের মধ্যে পোশাক শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। যাদের ৫০ শতাংশের শরীরেও অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। তবে টিকা গ্রহণকারীদের তুলনায় তাদের অ্যান্টিবডির কার্যকারিতা অনেকটা কম।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম ডোজ গ্রহণের প্রথম মাসেই গড়ে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ১৭৫ ডিইউ মিলিলিটার থাকলেও দ্বিতীয় মাসে তা ২৫ শতাংশ কমে যায়।  কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের দুই মাসের মধ্যে তা ৩২৪ ডিইউ মিলিলিটারে এসে দাঁড়ায়।  প্রতি মাসে কিছুটা কমলেও ৬ষ্ঠ মাসে হ্রাসের হার ৩ শতাংশ এসে দাাঁড়ায়। অর্থাৎ দুই ডোজ গ্রহণের ৬ মাস পর্যন্ত অ্যান্টিবডি পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ থাকছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রফেসর ড. এম এ হাসান চৌধুরী বলেন, দুই ডোজ টিকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ১০০ শতাংশের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। আর যারা একেবারে টিকা নেননি, প্রাকৃকিতভাবে তাদের শরীরে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। পেশাগত দিক থেকে চিকিৎসক, নার্স এবং রোগীর অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরির হার বেশি পাওয়া গেছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.