১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মিত হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক।।

১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ ও ৪টি পাসপোর্ট অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২১টি জেলা সদরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আরও ৯টি প্রকল্পের সঙ্গে সংশোধিত এই প্রকল্পটিরও অনুমোদন দেওয়া হয়।

শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২১ মেয়াদকালে মূল প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। প্রথম সংশোধনে প্রকল্পটিতে ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচ বাড়িয়ে মোট প্রকল্প ব্যয় ১২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উদ্যোগে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর ২১টি জেলা সদরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে নিকটতম সুবিধাজনক স্থান থেকে উন্নতমানের পাসপোর্ট সেবাদান এবং ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ ও সিলেট, চট্টগ্রাম (মনসুরাবাদ), কক্সবাজার, যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে সর্বমোট ২১টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সেবা দিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মানুষ আরও সহজে পাসপোর্ট বিষয়ে সেবা পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাসপোর্ট সেবাপ্রত্যাশীদের দ্রুততম সময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সেবা পৌঁছানো সহজতর হবে।

৪ হাজার ৬২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ১ হাজার ৫৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো—সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘নেত্রকোনা-বিপিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক (জেড-৩৭১০) উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ (সংশোধিত ১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ ও ৪টি পাসপোর্ট অফিস ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্প এবং ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্প; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, গাজীপুর এর অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্লাড অ্যান্ড রিভারব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট-২)’ প্রকল্প এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) প্ল্যান্ট স্থাপন’ প্রকল্প এবং ‘গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প।

একনেক সভায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান; কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ; স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম; ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

এছাড়াও সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।