হাসপাতালের স্টাফদের অতিরিক্ত ফি না দেওয়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর

প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, শনি, ১২ জুন ২১

নিউজ ডেস্কঃ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অতিরিক্ত ফি চাওয়ার প্রতিবাদ করায় স্টাফদের মারধরের শিকার হয়েছেন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে রংপুরে পৃথকভাবে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আহতরা হলেন, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম। তারা আপন ভাই। তাদের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ তার ছোট ভাইসহ অসুস্থ মাকে ভর্তি করার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। হাসপাতালের স্টাফরা ৩০ টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে রিয়াদ সেটা দিতে অস্কীকৃতি জানান। কেন অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের ১৫-১৬জন স্টাফ রিয়াদকে মারধর করেন।

ভুক্তভোগী রিয়াদ বলেন, অতিরিক্ত ফি না দেওয়ায় ১৫-১৬ জন স্টাফ এসে আমাকে গুম করে ফেলার হুমকি দেয় এবং মারধর করে। এ সময় আমার ছোট ভাই রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেলে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আপেল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক দুই শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছি। বিষয়টি আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন এবং সমাবেশ করেন। এছাড়া, বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনার তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.