হাত ধোয়া আর মাস্ক পরাই যখন প্রতিরোধের উপায়

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, শুক্র, ১৬ এপ্রিল ২১

জাহাঙ্গীর বাবু।।

দ্বিতীয় রমজনের শেষে তৃতীয় রমজানের তারাবী। সরকারি ঘোষণা যদিও বিশজনের ,মুসল্লী হয়েছিল প্রায় পয়ষট্টি।মাস্ক ছিলো জন পাঁচেক এর।তার মধ্যে আমার আর আমার বাসার মালিকের ছেলেরও ,।হাঁচি, কাশি যেন ইচ্ছে করেও দিচ্ছেন কয়েক জন । নামাজের শুরুতে মাস্কের কথা যিনি বলছেন, তিনি ব্যাবহার করেন না।ইমাম সাহেব দীর্ঘ তেলাওয়াত করেন, তিনিও মাস্ক পরতে পারছেন না, কমিটি মাস্কের লিফলেট লাগিয়েছেন বেশ করে।কিছু বললেই,মুচকি হাসি।অবাস্তব ব্যাখা।

করোনা যার হয়েছে,যে পরিবারের হয়েছে তারাই জানে এর কষ্ট। জন্ম, মৃত্যু সব কিছুই আল্লাহর হাতে,তিনি কিন্তু সাবধানে থাকার কথাও বলেছেন। কিছু বললে আবার এমন কমেন্টস করবে এই ইহুদী নাসারাদের তৈরী সফটওয়্যারে এসে তা বলাই বাহুল্য, আমি ও ইহুদি, নাসারাদের ডিভাইস নিয়ে থাকছি ২৪ ঘন্টার ১৬-১৮ ঘন্টা।

লকডাউন,মাস্ক,সাবান নিয়ে পন্ডিতি করতে গেলেই প্রসঙ্গ নিয়ে আসবে গাড়ি,মল,মাল,গার্মেন্টস ইত্যাদির। আরে ভাই সরকার তার কৌশলে যা করার করছে,করবে,সে কৌশলের সাথে যত দিন পেরে উঠছে না কেউ,সয়েতো যেতেই হবেই।মসজিদে বিশ জনের সংখ্যা যার মাথায় এসেছে সে যে কোন গ্রহের প্রানী আল্লাহ ভালো জানেন।তিনি কত স্কয়ার ফুটে কত জন বললেই ল্যাটা চুকে যেতো।

শহরে লক ডাউনের আপডাউন যেমন তেমন, গ্রাম গঞ্জের হাট বাজার সি এন জি ভ্যান চলছে আগের মতোই।এদের কথা হলো করোনা ধনী আর দুর্ণীতে বাজের, খেটে খাওয়া মানুষের নয়? আল্লাহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন।মহামারী থেকে রক্ষা করুন।শুধু নিজেই নিজের মাস্ক পরা নিশ্চিত করুন।শুনুক আর নাই শুনুক অন্যকেও মাস্ক পরতে বলুন। এছাড়া আর কিছুই করার নেই।কিছু বললেই লুঙ্গি ধরে টান দেয়ার মানুষের অভাব নেই।

এই যে মৃত্যু নব্বই ছাড়ালো,কেন? হতে পারে শত বর্ষ উজ্জাপন,মোদি আন্দোলন,করোনাকে ভুলে বিয়ে,বিনোদন,যেমন খুশি তেমন চলাচলের ফলন।গন জমায়েত শুধু মসজিদে না,সর্বক্ষেত্রেই আছে,থাকবে।নিজেরাই নিজেদের জন্য সচেতন হতে হবে।স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে.
আমাদের খুব কাছের মানুষদের অনেকের করোনা,আমার ছোট ভাই দেড় মাস সৌদি আরবের রিয়াদের সিমুসি হাসপাতালে আইসিইউ ,সিসিইউ তে কাটিয়ে এখন বাসায় ডাক্তার নার্সের তত্ববধানে।উন্নত দেশ ,ফ্রি চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক মানের সেবায় ফায়ার এসেছে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ,যদিও এখনো শতভাগ সুস্থ্য হতে আরো দুইমাস সময় লাগতে পারে।স্কুল বন্ধু মনজুর কাদের টফি আমাদের মতো খেটে খাওয়া চাকরী জিবি,শরীররটা কাটা ছেড়া হয়েছে বেশ কয়েক বার।তারও করোনা পজেটিভ।গড় বছর জ্বরে ভুগেছি পুরো পরিবার,সে কি দুর্বিসহ দিনগুলো লোক লজ্জা আর আত্মীয়ের সাহায্যের একুশ দিন। হাসপাতালে আইসিইউ নেই ,থাকলেও তার খরচ যোগাবার সাধ্য আছে কয়জনের।

হাত ধোয়া আর মাস্ক পরাই যখন প্রতিরোধের উপায়, মেনে চলার চেষ্টা করতেই পারি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.