হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন শঙ্কায় বিসিএসে উত্তীর্ণ ৮১৬৬ চাকরিপ্রত্যাশী

পিয়াস সরকার।।

তারা সকলেই কঠিনতম পরীক্ষা বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে ক্যাডার পদে হননি সুপারিশপ্রাপ্ত। উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ৮ হাজার ১৬৬ জন সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন না- এমন শঙ্কায় পড়েছেন। বিসিএস উত্তীর্ণ অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ অধিদপ্তরের অধিযাচনের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নন-ক্যাডার শূন্যপদে সুপারিশ করা হয়। চলমান বিসিএস নন-ক্যাডার সুপারিশ প্রক্রিয়া পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার পূর্ব পর্যন্ত চলমান ছিল। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই চাকরিপ্রত্যাশীরা।

২৮তম বিসিএস থেকে ৩৮তম বিসিএস পর্যন্ত এই নিয়মেই পিএসসি নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করে আসছে। ৩৮তম বিসিএস থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩০২ জন চাকরিপ্রার্থীকে বর্তমান কমিশনই এই নিয়মে নিয়োগ দেয়। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার সুপারিশের এই নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে নন-ক্যাডার সুপারিশ করা হবে বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী। অর্থাৎ কোনো বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সরাসরি বিসিএস থেকে নিয়োগযোগ্য নন-ক্যাডার শূন্যপদ সংরক্ষণ করে সংখ্যা উল্লেখপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পিএসসি’তে পাঠাতে হবে এবং পিএসসি ওই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে সেই নন-ক্যাডার পদগুলো উল্লেখ করে পরবর্তীতে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডারদের সুপারিশ করবে।

৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগের জন্য যদি বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী বিভাজন করা হয়, তাহলে উত্তীর্ণ ৮ হাজার ১৬৬ জন মেধাবী চাকরিপ্রার্থীর অধিকাংশ প্রার্থী সুপারিশবঞ্চিত হবেন।

কারণ ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ১১ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে। উক্ত তারিখ পর্যন্ত যত শূন্যপদ ছিল তার প্রায় সব পদেই ৩৭তম বিসিএস ও ৩৮তম বিসিএস নন-ক্যাডারদের সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি ৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগের দিন অর্থাৎ ২৯শে মার্চ ২০২২ তারিখেও ৩৮তম বিসিএসের প্রার্থীদের ৩৩৭টি পদে সুপারিশ করা হয়েছে। তারা বলছেন, এখন সেই হিসেবে উক্ত তারিখ পর্যন্ত শূন্যপদে সুপারিশ করতে চাইলে আমাদের জন্য পদ নাই বললেই চলে।

আবার ৪০তম বিসিএস উত্তীর্ণরা দীর্ঘদিন করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কয়েক দফায় ভাইভা স্থগিত এবং ৪০তম বিসিএসের মাঝে ৪২তম (বিশেষ) বিসিএসের নিয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকায় দীর্ঘ সময় চলে যায়। ৪০তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া ৪ বছর পেরিয়ে ৫ বছর চলে যাওয়ায় অনেকেরই সরকারি চাকরির বয়স শেষ। তাছাড়া বর্তমানে বয়সে ৩৯ মাস ছাড় দেয়া হলেও তা বিসিএসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে। তাই নন-ক্যাডার নিয়োগের ক্ষেত্রে তারিখওয়ারি বিভাজন করায় তারা ফের সুপারিশবঞ্চিত হবেন।
৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের ৩০শে মার্চ।

প্রায় ৩ মাস পর পিএসসি ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদের জন্য অনলাইন আবেদনপত্র আহ্বান করে। পিএসসি জুন মাসের ২৬ তারিখ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার হতে সুপারিশ করার লক্ষ্যে শূন্যপদের অধিযাচন/রিক্যুইজিশন চেয়ে পত্র ইস্যু করে। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০তম বিসিএস ফরমেটে পিএসসিতে নন-ক্যাডার শূন্যপদের অধিযাচন পাঠানো হয়।

কিন্তু গত ২৩শে আগস্ট পিএসসি থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ৪০, ৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির তারিখওয়ারি ৪০তম বিসিএসের জন্য আসা সব নন-ক্যাডার শূন্যপদ বিভাজন করে সেই অনুযায়ী পদগুলো পিএসসি’তে পাঠানোর জন্য পিএসসি পত্র প্রেরণ করে। প্রত্যাশীরা বলছেন, তারা চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের ৬ মাস পরে এসে এরকম সিদ্ধান্ত নিলে ৪ বছর ধরে অপেক্ষা করে ১৫শ’ নম্বরের দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি না পেয়ে আমরা এবং আমাদের পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়বো।

এরই প্রেক্ষিতে ৪০তম বিসিএসে অপেক্ষমাণরা দাবি করেন যেহেতু ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির তারিখ পর্যন্ত থাকা শূন্যপদগুলোর সিংহভাগই ৩৭তম এবং ৩৮তম বিসিএস নন-ক্যাডারদের দেয়া হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের দাবি ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগের জন্য যেন তারিখওয়ারি বিভাজন না করে পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত যত শূন্যপদ আছে এবং যেসব শূন্যপদ ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসি’তে পাঠানো হয়েছে, সেইসব শূন্যপদে যেন ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয় এবং এই সুপারিশ প্রক্রিয়া যেন পূর্বের ন্যায় পরবর্তী বিসিএস অর্থাৎ ৪১তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত চলমান থাকে।

তারা বলেন, করোনার কারণে যেহেতু ৪০তম বিসিএস সব থেকে দীর্ঘস্থায়ী বিসিএস এবং অধিকাংশ প্রার্থীর বয়স শেষ। সুতরাং মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে যেন তারিখওয়ারি বিভাজন করা না হয়।

দাবি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকালে বিসিএস উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার ও চাকরিপ্রত্যাশীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন। জানতে চাইলে রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা রোববার আমাদের দাবিগুলো জানাবো। সেই সঙ্গে পিএসসি বরাবর দাবি সংবলিত একটা লিখিত আবেদন জানাবো। আমরা এ সময় সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের স্পষ্ট বক্তব্যের দাবি জানিয়ে আসবো। এরপরও যদি দাবি মানা না হয় আমরা আমাদের সাধ্যমতো কঠোর আন্দোলনে যাবো।