হঠাৎ পরীক্ষা নিলে আন্দোলন

প্রকাশিত: ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ, রবি, ৬ জুন ২১

নিউজ ডেস্ক।।

সশরীরে ক্লাস না করে, এ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ ব্যতীত এবং পূর্ব ঘোষিত পর্যাপ্ত সময় ছাড়া পরীক্ষা নিলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে, হল-ক্যাম্পাস খুলে না দিয়ে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরেক নতুন সংকটে পড়বেন। প্রস্তুতির সময় না দিলে ফল বিপর্যয় ঘটবে। হল-ক্যাম্পাস খুলে না দিলে থাকার সংকটেও পড়বেন শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্লাস ছাড়া পরীক্ষার এখনই রুটিন নয়, আগে টিকা নিশ্চিতের রুটিন প্রকাশ করা হোক। কিভাবে সরকার শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকা নিশ্চিত করবে আগে সেই রোডম্যাপ প্রকাশ হোক। শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন, অফিস, আদালত, হাঁট-বাজার, পোশাক কারখানা, গণপরিবহনের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় সরকার যদি একচেটিয়া কিংবা স্বেচ্ছাচারিতায় নিজেদের খেয়ালখুশিমতো ক্যাম্পাস না খুলে পরীক্ষা নেয় তাহলে শিক্ষার্থীরা সারা দেশে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ দাবি তুলেছেন, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়ে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং হল খুলে সব পরীক্ষা নিতে হবে। সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম— ক্লাস, পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবিলম্বে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। এ দাবিগুলো নিয়ে সমপ্রতি রাজধানীর নীলক্ষেতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার দাবি জানান। আজকে ফের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নীলক্ষেতে অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, গত বছরের ১৭ মার্চের কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কলেজ ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধের ১৫ মাস অতিক্রান্ত হলেও শিক্ষাকার্যক্রম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় বা কলেজ প্রশাসন থেকে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। বরং কোনো পরিকল্পনা ছাড়া একের পর এক তারিখ ঘোষণা করে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে এক প্রকার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। অনলাইন ক্লাস চালু রাখা হয়েছে যেখানে আর্থিক সংকট, ডিভাইস সংকট ও নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ রেখে অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণার ফলে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষাকার্যক্রম থেকে ঝড়ে পড়েছে। তারা বলছেন, অফিস-আদালত, মার্কেট, গার্মেন্টসহ সব খোলা রাখা হয়েছে সেখানে করোনার অজুুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। গত ১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আবাসিক হল না খুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সাত কলেজের বিভিন্ন বর্ষের স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে থেকে এসে পড়াশোনা করেন। হলে, মেসে সাবলেটে বিভিন্ন জায়গায় টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়ে অনেক সময় পরিবারকেও আর্থিক সহযোগিতা করে তাদের টিকে থাকতে হয়। করোনাকালীন সময়ে টিউশন হারিয়ে এক অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন তারা। এমতাবস্থায় শুধু পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে থাকা তাদের জন্য ‘গোঁদের উপর বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়াবে। তাই ক্যাম্পাস না খুলে পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়ে পরীক্ষার পক্ষে নন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত এলাকায় ছিলাম। অনলাইন ক্লাসেও নানা জটিলতায় যুক্ত হতে পারিনি। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে যদি অল্প সময়ের ঘোষণায় পরীক্ষা নেয়া হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের ফল বিপর্যয় হবে। আমরা আগে সশরীরে সম্পূরক ক্লাস চাই। ক্লাসে উপস্থিত থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির মাধ্যমেই পরীক্ষা দিতে চাই।’

ইডেন কলেজের শাহিনুর সুমি বলেন, ‘আমরা হুট করেই পরীক্ষা দিতে চাই না। আগে আমাদের ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হোক। আমাদের ক্লাসের রোডম্যাপ দেয়া হোক। একটি কার্যকর রুটিন প্রকাশ করা হোক। মৌলিক সমাধানগুলো করে তবেই যেনো পরীক্ষা নেয়া হয়।’ ঢাক কলেজের আরেক শিক্ষার্থী ইসমাইল সম্রাট বলেন, ‘সরকার থেকে বলা হচ্ছে— আগে টিকা তারপর ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হবে। এটি যদি হয় তাহলে আগামী আরো দু’বছরেও ক্যাম্পাস খুলতে পারবে কি-না সন্দেহ রয়েছে। তাই আমি বলবো, ক্লাস ছাড়া পরীক্ষার রুটিন নয়, আগে টিকা নিশ্চিতের রুটিন প্রকাশ করা হোক। কিভাবে সরকার আমাদের টিকা শতভাগ নিশ্চিত করবে আগে সেই রোডম্যাপ প্রকাশ হোক। টিকা ছাড়া, ক্লাস ছাড়া আমরা পরীক্ষা দিতে চাই না।’

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী জয়মা মুনমুন বলেন, ‘আমরা বইখাতা নিয়ে আজ ক্যাম্পাসে থাকার কথা। অথচ আমাদের এখন রাস্তায় নামতে হচ্ছে। আমাদের অনেক বন্ধু মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। অনেকে অনলাইনে সময় দিয়ে বিপদগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছেন। যারা মারা যাচ্ছেন আমি বলবো এটি রাষ্ট্রীয় হত্যা। আজ যদি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকতো তাহলে সবাই বইমুখী হয়ে সময় ব্যয় করতেন। তাই বলবো, সরকারের উচিত এখনি আমাদের পরীক্ষা নয় আগে আমাদের ক্যাম্পাস খুলে দিতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে আমাদের রাজপথে নামতে হবে।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.