স্বাস্থ্যবিধি মানুন সতর্ক থাকুন

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ৩১ মার্চ ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন সোমবার ১৮ দফা যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা মেনে চলার বিকল্প নেই।

বস্তুত মার্চ মাসের শুরু থেকেই দ্বিতীয় দফায় করোনার ঊর্ধ্বগতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সোম ও মঙ্গলবার টানা দুই দিন নতুন করে পাঁচ সহস্রাধিক শনাক্ত হয়, যা সংখ্যার বিচারে দেশে করোনায় সর্বোচ্চ। সরকার স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ ও গণপরিবহনে ধারণক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, অন্তত ২৯টি জেলা করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের মনে আছে, গত বছর এ সময়ে করোনা সংক্রমণের জন্য সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রায় সব ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। সোমবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সাধারণ ছুটির বিষয়টি নাকচ করলেও আমরা চাই, ১৮ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। আমরা মনে করি, সংক্রমণের এই সময়ে যে কোনো ধরনের জনসমাগম ঝুঁকিপূর্ণ।

সে বিবেচনায় বিয়ে, জন্মদিনসহ সামাজিক যে কোনো অনুষ্ঠান এ সময়ে স্বল্প পরিসরে করা দরকার। আমরা দেখছি, গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে সারাদেশে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গণপরিবহনে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেটার ভার যাত্রীকেই কেন বহন করতে হবে? আমরা মনে করি, কেবল যাত্রীর ওপরে চাপ না বাড়িয়ে এ ক্ষেত্রে সরকার ও পরিবহন মালিকেরও দায়িত্ব নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

তবে কোনো পরিবহনে অর্ধেকের বেশি যাত্রী যাতে না তোলা হয়, তা নিশ্চিত করতেই হবে। আমরা জানি, করোনা সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ঘরে থাকা। এটি নিশ্চিত করার জন্য অযাচিত বাইরে থাকা কাম্য নয়। একই সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠান অর্ধেক জনবল দ্বারা পরিচালনার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা মানাও অবশ্যক।

আমরা দেখেছি, গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ঘরে থেকে অফিস নিশ্চিত করেছে। এখনও সম্ভব হলে সে ব্যবস্থা করার মাধ্যমে করোনা থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখা সহজ হবে। সরকারি নির্দেশনায় এখনই ৫৫ বছরের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘হোম অফিস’-এর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। করোনা দুর্যোগের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অনলাইনে সভা, সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদি আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশীয় আয়োজনগুলোও ভার্চুয়ালি করা নিরাপদ।

এ দুর্যোগের কারণে গত বছর বন্ধ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও খোলেনি। ৩০ মার্চ খোলার তারিখ থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এ সময়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম আগের মতো পুরোদমে চালুর বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। দূরবর্তী শিখন সবার কাছে পৌঁছাতে অনলাইন ও টিভির পাশাপাশি ফোনে এফএম রেডিওতেও চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আমরা দেখেছি, হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও ধারণক্ষমতার অর্ধেক মানুষের প্রবেশের বিষয়টি সরকারি প্রজ্ঞাপনে এসেছে। তবে সব ক্ষেত্রেই সর্বদা মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা চাই। ইতোমধ্যে মাস্কের বিষয়ে নানাভাবে জোর তাগিদ প্রদান করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা নানামুখী সংকট দেখছি। রোগী হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হাসাপাতালে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আমরা চাই, প্রত্যেকেই এ দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখুক। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে ঘরে থাকার বিষয়ে নজর দেওয়া চাই। প্রয়োজনে বের হলে পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

করোনার নতুন ঢেউ বিশ্বব্যাপীই স্পষ্ট। আমরা গত বছর সম্মিলিতভাবে যেভাবে এ দুর্যোগ থেকে যথাসম্ভব নিজেদের রক্ষা করেছি, এবারও সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সচেতনতা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ১৮ দফা যথাযথ বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আগেই সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.