স্ট্যাম্পে সই করে সভাপতির টাকা নেওয়ার অভিযোগ, নিয়োগ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইসলামীয়া আলিম মাদ্রসায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে রবিবার দুপুরে লিখিত পরীক্ষার পরে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদ লতিফ। টাকা নেওয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম তরফদারের প্রত্যাহার ও বিচার দাবি করেছেন নিয়োগ প্রত্যাশীসহ স্থানীয়রা।

স্ট্যাম্পে চুক্তি করে মাদ্রাসার সভাপতি মো. আবুল কাশেম তরফদারকে টাকা দেওয়া মো. মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে মীর মুকিত মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির (নিরাপত্তা প্রহরী) নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিল। মাদ্রাসার সভাপতি মো. আবুল কাশেম তরফদারের সাথে একশত টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে দুই ধাপে তাকে ১ লাখ টাকা প্রদান করি। কিন্তু নিয়োগের দিন দেখি আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন সভাপতি মো. আবুল কাশেম তরফদার। গোয়ালের গরু বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছি।’
শুধু মীর মুকিতই নয়, অন্তত ১৭ জন প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন অংকে টাকা নিয়েছেন সভাপতি এমন অভিযোগ রয়েছে চাকুরি প্রার্থীসহ স্থানীয়দের।

মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম তরফদার বলেন, ‘শুধু একজনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে টাকা নেওয়া হয়েছে। চাকুরি না হলে আমরা টাকা ফেরত দিব। যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছে এখন অপেক্ষা করতে হবে।’

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদ লতিফ জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খানপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ভাইস প্রিন্সিপাল, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ শূন্য ছিল। শূন্য থাকা এই ৫টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহবান করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ৫টি পদের বিপরীতে ৭২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। সব প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকাল থেকে রামপাল উপজেলার শারাফপুর আলিয়া মাদ্রাসা নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। নিয়োগ প্রদানের শর্তে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম তরফদার স্টাম্পে চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করে টাকা নেয়ায় প্রার্থীদের অভিভাবকরা হট্টগোল করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনসহ আমাকে জানায়। পরে নিয়োগ স্থগিত করা হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্ট্যাম্পে চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করে সভাপতির টাকা গ্রহণ ও অনিয়মের বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নিয়োগ প্রত্যাশীদের নোটিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার উভয় পক্ষের শুনানীর মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। তদন্ত রিপোর্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহা পরিচালক বরাবর পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।