স্কুলে ক্লাস নেন অন্যজন, বেতন তোলেন মেয়রের স্ত্রী

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃকে কখনো ক্লাস নিতে দেখেনি শিক্ষার্থীরা। মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে ঘুরতে আসেন। অথচ বিদ্যালয়ে ক্লাস না করিয়ে তিনি মাসের পর মাস বেতন-ভাতা তুলছেন। বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন বলেন, ‘নাছিমা খাতুনের পরিবর্তে মর্জিনা আক্তার নামের একজন ক্লাস নেন। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়ে না আসা শিক্ষকদের নাম জানতে চেয়েছিল। আমি তথ্য দিয়েছি। বাকিটা শিক্ষা কার্যালয় বুঝবে।

মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে নাছিমার পরিবর্তে আমি বিদ্যালয়ে ক্লাস নিই। পারিশ্রমিক হিসেবে নাছিমা প্রতি মাসে আমাকে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা করে দেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে তিনি মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে যান।

বিদ্যালয়টির চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠা দুজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে জানান,’ নাছিমা নামের কোনো শিক্ষককে তারা চেনে না। কখনো তো আমাদের ক্লাস করাতে দেখি নাই। তিনি যে শিক্ষক, সেটা জানতাম না।

সহকারী শিক্ষক নাছিমা খাতুন বলেন, ‘কে বলছে, আমি আসি না। আমি বিদ্যালয়ে আসি। মাঝেমধ্যে যখন অসুস্থ থাকি, তখন মর্জিনা আমার পরিবর্তে ক্লাস নেন।

পৌর মেয়র আবদুল কাদের বলেন,’ স্ত্রী অনেক অসুস্থ। অসুস্থতার বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তারা জানেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে তাঁর স্ত্রী বিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। সেই দিনগুলোতে মর্জিনা ক্লাস নেন।’

বিদ্যালয়ে না গিয়ে বেতন-ভাতা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি খুব সৎভাবে চলি। আমার আয়ের বেশির ভাগ গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিই। আমার স্ত্রীর বেতনে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ হয়।’

জামালপুর জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, এই প্রথম শুনলেন তাঁর পরিবর্তে অন্য কেউ ক্লাস নেন। বিষয়টি সত্য হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ওই শিক্ষকের ছুটির কোনো আবেদনও তাঁদের কাছে নেই।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৯/২৩