সালমান শাহর সুইসাইড নোটে যা লেখা ছিলো

প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, সোম, ৬ সেপ্টেম্বর ২১

অনলাইন ডেস্ক।।

ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। দীর্ঘ ২৫ বছরেও তার মৃত্যু নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। তিন দফা তদন্তের পর এ চিত্রনায়কের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও তা মানতে রাজি নন তার পরিবার। সালমানের মায়ের দাবি এটি ‘হত্যাকাণ্ড’।
১৯৯৬ সালের আজকের দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। সে সময় সালমানের বাসা থেকে একটি সুইসাইড নোট পায় পুলিশ।
সেই নোটে লেখা ছিলো, ‘আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার। পিতা: কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৪৬/৫, গ্রীন রোড, ঢাকা #১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে- আজ অথবা আজকের পরে যে কোনো দিন আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। সেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। এর পেছনে ৫টি কারণও উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্তারা। এগুলো হলো-
১. চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা।
২. স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ।
৩. বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা।
৪. মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, যা জটিল সম্পর্কের বেড়াজাল তৈরি করে অভিমানে রূপ নেয়।
৫. সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি। তখন বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরপর মামলাটি তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
গত ৩১ অগাস্ট ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু সালমান শাহের মা লন্ডনে থাকায় ‘নারাজি’ দাখিলে সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবী। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর নতুন তারিখ ধার্য করেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.