সারা দেশেই দুই ভাগে বিভক্ত ছাত্রলীগ-ড. মীজানুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, দেশের কোথাও ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ নেই। সারা দেশেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তারা। একটি পক্ষ কেন্দ্রীয় সভাপতির, অন্যটি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের। যেখানেই এ সংগঠনের কমিটি জন্ম নেয় সেখানে জন্মের সময় থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ছাত্রলীগের এমন সমস্যা গত কয়েকটি কমিটি ধরেই হচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ উপাচার্য বলেন, দেশের যে কোনো ইউনিটে ছাত্রলীগের কমিটি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর সময়ই দুটি পক্ষ তৈরি হয়। একটি পক্ষ প্রটোকল দেয় কেন্দ্রীয় সভাপতিকে অন্য পক্ষ প্রটোকল দেয় সাধারণ সম্পাদককে। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসার সামনে গিয়েও বসে থাকে। আর কেন্দ্রীয় নেতারাও সংগঠনের কমিটি দেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে মাত্র দুজনকে দায়িত্ব দিয়ে বাকিগুলো শূন্য রাখেন, কর্মীদের লবিং করার সুযোগ করে দেন। ড. মীজানুর বলেন, এমনও অভিযোগ রয়েছে- মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয় না। কমিটিতে আসার সঙ্গে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জড়িয়ে যায়। আসলে যোগ্যতা বাদ দিয়ে অন্য কোনো মেকানিজমে নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্মেলন করার সময়ই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিতে হবে, যাতে সেখানে অন্য কেউ ঢুকতেও না পারে, বেরও হতে না পারে। তাহলে অনেক অভিযোগ কমে আসবে। ড. মীজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে ছাত্ররাজনীতি করা হয় তার কোনোটিই এখন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এটি গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার। ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের এমন অধঃপতন কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের আগামী সম্মেলন সামনে রেখে দুটি পক্ষ ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রটোকল দেওয়া শুরু করেছে। ছাত্রলীগকে ঐক্যবদ্ধ করা না গেলে এটি জাতীয় রাজনীতি, ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামে যে ভূমিকা রাখার কথা- সেটি রাখতে পারবে না, তারা দুর্বল হয়ে পড়বে।