সাধারণ মানুষের কথা ভাবার কেউ আছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ঢাকা ওয়াসা নাগরিকদের সরবরাহ করা পানির দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে চায়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, ভর্তুকি কমাতে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত ওয়াসা নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। ওয়াসার পানি পানযোগ্য তো নয়ই, সাধারণ কাজেও ব্যবহার উপযোগী নয়- এমন অভিযোগ আসে অহরহ। এ অবস্থায় দ্বিগুণের বেশি দাম বাড়ানোর উদ্যোগ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ওয়াসা পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় একতরফাভাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। অথচ ভোক্তা অধিকার আইন অনুসারে, পানির দাম বাড়াতে হলে ওয়াসার অবশ্যই ভোক্তাদের মতামত নেওয়া উচিত। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে গণশুনানির ব্যবস্থা আছে, কিন্তু ওয়াসায় তেমন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে পানির দাম বাড়ায়। অবশ্যই ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর আগে গণশুনানির ব্যবস্থা করা উচিত। এভাবে পানির দাম বাড়ানো মেনে নেওয়া যায় না।

শুধু পানি নয়, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান। গ্যাসের দাম বাড়াতে বাংলাদেশ তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব আয় বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের মতো আচরণ না করে সরকারের উচিত রাজস্ব ও মূসক আদায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ করার পাশাপাশি যোগ্য ব্যবসায়ীদের কর ও মূসকের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে সর্বসাধারণের জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। এমনিতেই করোনার চাপে বিপর্যস্ত মানুষ। তাই যে সিদ্ধান্ত জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা গ্রহণযোগ্য নয়