সাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা

 নিউজ ডেস্ক।।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ কারণে সব সমুদ্রবন্দরে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত বলবৎ রাখা হয়েছে। এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে ঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার মতো কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

বুধবার এমনটাই জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে প্রথমে নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়, এটি বর্তমানে দক্ষিণপশ্চিম ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায়।
ফলে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে এক নম্বর দূরবর্তী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে এবং গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে ভারতের আবহাওয়াবিদ আরকে জেনামানি বলেছেন, বুধবার রাতেই গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

ধীরে ধীরে এটি উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সাগরে শক্তি হারিয়ে ১০ ডিসেম্বর ভোরে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে। ঘূর্ণিঝড়টি নাম হবে ম্যানডৌস (MAN-DOUS), এটি ইউনাইটেড আরব আমিরাতের দেওয়া নাম।
ঘূর্ণিঝড়ের এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়বে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

ঢাকায় উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। আগামী দু’দিনের শেষের দিকে রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে। আর বর্ধিত পাঁচ দিনে আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।