সাইবার পুলিশ স্টেশন হচ্ছে ঢাকায়

প্রকাশিত: ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, সোম, ১৮ জানুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্ক।।

সাইবার (ইন্টারনেট দুনিয়া) অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে ও তাদের আইনের মুখোমুখি করতে রাজধানী ঢাকায় হচ্ছে সাইবার পুলিশ স্টেশন। এ জন্য পুলিশ সদর দফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য সাতটি বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের পুলিশ স্টেশন হবে।

আর ২০১৮ সালের শেষ দিকে সিআইডিতে খোলা হয় সাইবার পুলিশ সেন্টার শাখা। বর্তমানে নারী ও শিশুসহ দেশের সব নাগরিকের জন্য সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে ও সাইবার অপরাধীদের দমন করতে তারা সফলভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ওই কর্মকর্তাদের মতে, সাইবার অপরাধ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিন নতুন নতুন হাজারো অভিযোগ যোগ হচ্ছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে। যেগুলোর বেশিরভাগই অনলাইন প্রতারণা, বিকাশ ও তরুণীদের ব্ল্যাকমেইলিং নিয়ে। সাইবার অপরাধীদের ডাটাবেজও সংরক্ষণ করা হচ্ছে সিআইডিতে।

nagad
ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন ফরেনসিক নমুনা রেখে দেয়া হয়, যাতে পরবর্তীতে আবার একই অপরাধ করে ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেয়া যায়। বর্তমানে জনবল কিংবা প্রযুক্তিগতভাবে তাদের কিছুটা ঘাটতি থাকলেও খুব অল্প সময়েই সক্ষমতা দেখিয়েছে সিআইডির সাইবার শাখা। তাই ভুক্তভোগী মানুষও তাদের প্রতি ঝুঁকছে বেশি।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, সাইবার অপরাধ দমনে সাইবার এডুকেশন, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ মানুষের সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর হবে। কারণ কয়েকজন অপরাধীকে শাস্তি দিয়ে অপরাধ দমন করা কঠিন কাজ।

সিআইডির সাইবার সেন্টারের তথ্য বলছে, তাদের ফেসবুক পেজে গত ১ জানয়ারি ২০২১ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১১ দিনের অভিযোগ এসেছে ১০০১টি। ফোন কলে অভিযোগ এসেছে ২৭৩টি। এর মধ্যে ফোনে সমাধান দেয়া হয়েছে ১১০টি। অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে ২৪টি।

এগুলোর মধ্যে হ্যারেসমেন্ট বিষয়ক অভিযোগ ১০টি, বিকাশ ফ্রড ৩ টি, অনলাইন প্রোডাক্ট পারচেজ ৭টি, ডলার পারচেজ ১টি, নাইজেরিয়ান ফ্রড ১টি ও বিধিধ দুইটি। অসম্পূর্ণ তথ্য, তুচ্ছ অভিযোগ ও ভোক্তা অধিকারসহ কয়েকটি কারণে অধিকাংশ অভিযোগ আমলে নেয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাইবার অপরাধের প্রকৃত চিত্র ভয়াবহ, ভুক্তভোগীদের একটি অংশ নানা কারণে অভিযোগ এড়িয়ে যান কিংবা কোথায় অভিযোগ করতে হবে সেটি জানেন না।

একই ভাবে বিগত বছরে সিআইডির সাইবার সেন্টারে ফেসবুক পেইজে মোট ২৭,৭৮৬ জন অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া ফোন কলে অভিযোগ এসেছে ৭,৬৮৮ টি। এর মধ্যে ফোনে সমাধান করে দেয়া হয়েছে ২১৩২টি। মোট ১৬৭৮টি অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে হ্যারেসমেন্ট বিষয়ক অভিযোগ ৬৪৩টি, বিকাশ ফ্রড ৩৯৫টি, অনলাইন প্রোডাক্ট পারচেজ ৩৫১টি, ডলার পারচেজ ১৭০টি, নাইজেরিয়ান ফ্রড ৪৭টি ও বিবিধ ৬৩টি আসে বিগত বছরে। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ঘটনা তুচ্ছ হলে অভিযোগ গ্রহণ করে না সিআইডি।

ঢাকায় সাইবার স্টেশন করার প্রস্তাব করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) এস এম আশরাফুল আলম জানান, একজন এসপির তত্ত্বাবধানে চলবে সাইবার পুলিশ স্টেশন। এ ছাড়া একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন সহকারী পুলিশ সুপারও থাকবেন তদারকিতে।

এ থানায়ও পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা থাকবেন ওসি হিসেবে। আশরাফুল আলম বলেন, সাইবার অপরাধ কয়েক ধরনের। হ্যারেসমেন্টের অভিযোগ আসে সাধারণত স্কুল থেকে কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই অপরাধের সংখ্যা কিছুটা কম। ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে সাইবার অপরাধের সংখ্যা বেশিী প্রযুক্তি ব্যবহারকারী টিনএজারদের সাইবার জগতে আরো সাবধানে থাকা উচিত। তাছাড়া বিকাশসহ অন্যান্য প্রতারণার ক্ষেত্রে যখনই কেউ মনে করেন তিনি ফাঁদে পড়তে যাচ্ছেন তখনই অভিযোগ করা প্রয়োজন।

সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের শেষ দিকে সাইবার সেন্টার চালুর পর প্রথম দিকে এই শাখায় অভিযোগ আসত খুব কম। কিন্তু সিআইডির পক্ষ থেকে নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশন নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরুর পর এখন অভিযোগের শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাচ্ছেন। গত বছরের মার্চের দিকে দিনে গড়ে অভিযোগ ছিল ৫ থেকে ৬শ’। সে সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দুই হাজারে ঠেকেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জানতে চাইলে সিআইডির সাইবার পুলিশের সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান বলেন, সাইবার অপরাধ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এটা থেকে রক্ষা পেতে পিতা-মাতা তথা অভিভাবকসহ মানুষের সচেতনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সিআইডির পক্ষ থেকে প্রথমে ঢাকায় একটি সাইবার পুলিশ স্টেশনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি নিয়ে কাজ চলছে। এটি চালু হলে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধীদের দমনে কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে বলে আশা করছি।

সিআইডির সাইবার সেন্টারে প্রাপ্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির বিষয়ে কামরুল আহসান আরো বলেন, কিছু অভিযোগ রয়েছে যেগুলো আমরা ফোনেই সমাধান করি। তবে সাইবার অপরাধগুলো সাধারণত একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করে করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটা ডিভাইসের আলাদা ফরেনসিক পরীক্ষা করে প্রমাণ করতে হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এসব মামলায় কোনো কিছু করা সম্ভব হয় না। প্রতিটি অভিযোগ গড়ে ১৫ দিনের মতো সময় লাগে। কিছু ক্ষেত্রে কয়েক মাসও লেগে যায়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.