সহজেই নাগরিকত্ব দেয় যেসব দেশ

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৭ মে ২১

অনলাইন ডেস্ক।।

অনেকেই উচ্চশিক্ষা অর্জনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই সেসব দেশ আমাদের দেশের চেয়ে কিছুটা হলেও উন্নত। কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে অনেকেই দেশে ফেরত আসেন। আবার অনেকেই আছেন, যারা মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে সে দেশেই স্থায়ী হন।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলো অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বেশ উদার দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে থাকে। যে কোনো দেশ অন্য দেশের নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্ব দানে মূলত চারটি বিষয় বিবেচনা করে থাকে। সেগুলো হচ্ছে –

জন্মসূত্রে নাগরিক:

এক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশের নাগরিকেরা বেশি সুবিধা পান।  তাছাড়া সংশ্লিষ্ট নাগরিক কোনো শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশের নাগরিক হলেও বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

নতুন দেশে অবস্থানের সময়কাল:

অধিকাংশ দেশ পাঁচ বছর স্থায়ীভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্ব আবেদনের সুযোগ দেয়। তবে কিছু কিছু দেশ রয়েছে, যারা দুই বছর সফলভাবে থাকার পরও নাগরিকত্ব আবেদনের সুবিধা দিয়ে থাকে।

অর্থ-সামর্থ্য:

নির্দিষ্ট খাতে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমেও অনেক দেশ নাগরিকত্বের সুবিধা দেয়।

নমনীয়তা:

সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিককে বিয়ে করলে সহজেই সে দেশের স্থায়ী বাসিন্দা এবং নাগরিক হওয়া যায়।

কোনো অভিবাসন প্রত্যাশী তার স্বপ্নের দেশে যেতে বা থাকতে পারবে কিনা তা উপরোক্ত বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তবে সহজেই অভিবাসন পাওয়া যায়, এমন কয়েকটি দেশের অভিবাসন নীতি ও শর্তগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

সিঙ্গাপুর:

আপনি এ দেশে কোনো ব্যবসা স্থাপন করলে, চাকরি পেলে কিংবা কোনো নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবেন। দুই বছর স্থায়ীভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে বয়সের একটি ব্যাপার রয়েছে। জেনে রাখা ভালো, সিঙ্গাপুর দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন দেয় না।

কানাডা:

নর্থ আমেরিকান এই দেশটি বর্তমানে অনেকেরই স্বপ্নের দেশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। দেশটি নাগরিকত্ব প্রদানে অভিবাসীদের জন্য সহজ ও উদারপন্থী কিছু শর্ত রেখেছে। আপনি তাদের দেশে নির্দিষ্ট ১২ ক্যাটাগরিতে সহজেই কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এরপর ৫ বছরের মধ্যে কেবল ৭৩০ দিন সে দেশে অবস্থান করলেই আপনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর্জেন্টিনা:

দেশটিতে বসবাসরত অবস্থায় প্রতিমাসে কমপক্ষে এক হাজার ডলার প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ আয় দেখাতে পারলে দুই বছর পর আপনি সে দেশের নাগরিক হতে পারবেন।

পানামা:

পানামার অভিবাসন নীতি দেখলে আপনার মনে হবে, তারা অভিবাসীদের জন্য ডালা সাজিয়ে বসে আছে। এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পঞ্চাশটির বেশি অপশন আছে। প্রথমে তারা দু-বছর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়, যা দু-বছর পর পর নবায়ন করা যায়। এভাবে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলে নাগরিকত্ব আবেদনের সুযোগ পাওয়া যায়।

পেরু:

এ দেশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করলে কিংবা কোনো ব্যবসা শুরু করলে দু’বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়।

ক্যারিবিয়ান দেশ:

নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে (অনেক ক্ষেত্রে সরকারকে দান করে) ক্যারিবিয়ান দ্বীপের নির্দিষ্ট দেশের পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব।

নর্ডিক দেশগুলোর নাগরিকত্ব আইন বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিন্ন। তবে শর্তগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূরণ করা খুব কঠিন কিছু না। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনও আমাদের জন্য খুব কঠিন নয়। তাই বলা যায়, কোনো দেশের নাগরিকত্ব আবেদনের শর্ত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইটগুলো ঘেঁটে পূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়াই উত্তম।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.