সরকারি হাসপাতালে বাড়ছে সেবা

নিউজ ডেস্ক।।

দেশের জরুরি রোগীদের ভরসার জায়গা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এই তিন হাসপাতালে বাড়ছে শয্যা ও সেবার ব্যবস্থাপনা। আউটডোরে সেবা গ্রহীতাদের সুবিধায় নেওয়া হয়েছে উন্নয়ন পরিকল্পনা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে সেবা গ্রহীতাদের জন্য করা হয়েছে বসার জায়গা, ওয়েটিং জোন, আধুনিক পরিচ্ছন্ন টয়লেট। আগে আউটডোরে সেবা নিতে এসে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো রোগীদের। টাঙ্গাইল থেকে পায়ে ঘা নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন নিয়ামত আলী। তিনি বলেন, ‘তিন মাস পর পর এখানে এসে ডাক্তার দেখাতে হয়। আগে বসার জায়গা না থাকায় খুব অসুবিধা হতো। পায়ে ঘা নিয়ে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে কাগজ-পলিথিনের ওপর বসে থাকতে হতো। এখন এই ব্যবস্থা করায় খুব সুবিধা হয়েছে।’ স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফির্ডিং কর্নার করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছে গাছ। জরুরি বিভাগেও সেবা বাড়াতে কাজ চলছে। এই হাসপাতালের আউটডোরে বছরে প্রায় দেড় লাখ রোগী চিকিৎসা নেন। ইনডোর-আউটডোর মিলিয়ে ৫ লাখেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নেয় এই হাসপাতালে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক   বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী আসে আমাদের হাসপাতালে। অনেকে সারা রাত বাস, ট্রেনে, লঞ্চে আসে। দূরদুরান্ত থেকে আসা রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা তো আমরা দিতে পারি না। তাই সবার সহযোগিতায় আমরা কিছু কাজ করেছি। আউটডোরে রোগী ও তার স্বজনদের বসার জায়গা, ওয়েটিং রুম করেছি। ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোগীদের লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে কিছু কাজ করা হয়েছে। এই উন্নয়ন কাজে চার মাস সময় লেগেছে।’
হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ভোর কিংবা মাঝ রাতে রোগী নিয়ে স্বজনরা ছুটে আসেন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। হাসপাতালের মেঝে থেকে করিডোরে কাঁথা, বিছানার চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন হৃদয়ের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা। রোগীর চাপ সামলাতে ৪০০ শয্যার হাসপাতালকে ১ হাজার ২৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যেই ৭৫০ শয্যায় রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মীর জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে তিন গুণ। আগে এই হাসপাতালে ৪০০ শয্যা ছিল। এখন ৭৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে আশা করছি ১ হাজার ২৫০ শয্যায় রোগী ভর্তি করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে সব সময় রোগীর চাপ থাকে, এখনো ৪০০ রোগী মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার রোগী চিকিৎসা নেয়, প্রতিদিন ভর্তি হয় প্রায় ২০০ রোগী। হাসপাতালে দুটি ক্যাথল্যাব করা হয়েছে। জরুরি বিভাগ আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, সেবা বাড়াতে বেশ কিছু নতুন যন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে।’

বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের ভরসার জায়গা জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল)। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যন্ত্রণায় চিৎকার করা রোগীদের সেবা দিতে ছুটতে হয় চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীরা আসছেন সেবা নিতে। এসব রোগীর ৮০ শতাংশ মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আসেন চিকিৎসা নিতে। সেবার মান বাড়াতে বদলে গেছে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা। আগের ময়লার ভাগাড় পঙ্গু হাসপাতাল এখন ঝা চকচকে হয়ে উঠেছে। ১৮টি ওটি চালু হওয়ায় দিন-রাত অপারেশন করছেন চিকিৎসকরা। এতে অপারেশনের দীর্ঘ অপেক্ষা কমেছে রোগীদের। হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল গণি মোল্লা দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে গেছে সেবার চিত্র।

সম্প্রসারিত ভবনে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাথলজি, আউটডোর, জরুরি সেবায় পরিবর্তন এসেছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল গণি মোল্লা   বলেন, ‘এই হাসপাতালে শয্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এটাকে ১ হাজার শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে রোগী ভর্তি আছে ৮৫০ জন। সম্প্রসারিত নতুন ১০ তলা ভবনে কেবিন, রেডিওলজি বিভাগ, ব্লাড ট্রান্সমিশন বিভাগ, আউটডোর, প্যাথলজি বিভাগ এবং দুটি ফ্লোরে ১৮টি ওটি চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন এই হাসপাতালে আউটডোর ও জরুরি বিভাগে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোগী সেবা নেয়। ভর্তি হয় প্রায় ১৫০ জন। ডিসেম্বরের মধ্যে নার্স নিয়োগ পেলে আরও দুটি তলায় রোগী ভর্তি শুরু করব।