সম্মুখ সারির যোদ্ধা পরিবারের ১৮ বছর বয়সীরা টিকা পাবেন’

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, রবি, ২৫ জুলাই ২১

নিউজ ডেস্ক।।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি ঠেকাতে সম্মুখসারিতে কাজ করা পেশাজীবীদের পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা করোনা ভাইরাসের টিকা পাবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপে গিয়ে তারা যেন নিবন্ধন করতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ‘কোভিডের ৩য় ঢেউ মোকাবিলায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সংকট, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অধিকাংশ নাগরিককে ভ্যাক্সিনের আওতায় নিয়ে আসতে এখন থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দেশের সকল নাগরিককেই ভ্যাক্সিন প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে করেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও শিক্ষক এদেরকে আগে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া তাদের পরিবারের ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেসব সদস্য আছে, তাদেরকেও টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছি আমরা। এখন থেকে এটা কার্যকর। সুরক্ষা অ্যাপে এটা দিয়ে দিচ্ছি সেই অনুযায়ী কাজ হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, যারা সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারে না তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে টিকা দেওয়ার চেষ্টা করব। পরে তাদের নিবন্ধিত করে নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে গত ২৬ জানুয়ারি টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়। শুরুতে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা তিন ধাপে কমিয়ে ৩০ বছরে নামিয়ে আনা হয়। অর্থাৎ যাদের বয়স ৩০ বছর বা তার বেশি, কেবল তারাই এখন সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছেন। মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারির কর্মী, বেশ কিছু পেশাজীবী শ্রেণি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, প্রবাসী কর্মী এবং অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরেও নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে ১ কোটির উপরে ভ্যাক্সিন রয়েছে। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনের তিন কোটি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি, কোভ্যাক্সের সাত কোটি ডোজ, রাশিয়ার এক কোটি ডোজ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি ডোজ রয়েছে। এই ২১ কোটি ডোজ যদি সময় মতো পাই তাহলে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.