সপ্তম শ্রেণির বইয়ে সাজেদা-মতিয়া নেই, আছেন দীপু মনি

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ  সপ্তম শ্রেণির নতুন শিক্ষাক্রমে রচিত পাঠ্য ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন’ বইয়ের ‘সরকার পরিচালনায় নারী’ শীর্ষক অধ্যায়ে তিনজন নারী নেতৃত্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী রয়েছেন। রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও। কিন্তু নেই আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংদের সাবেক উপনেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সংসদ উপনেতা ও সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নাম।

‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন’ বইয়ের ১২৫ ও ১২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে আজ দুপুর ১টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকার পরিচালনায় নারী শীর্ষক অধ্যায়ে জাতীয় সংসদের সাবেক উপনেতা, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদা চৌধুরী এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর ভূমিকা কোনো অংশেই কম নয়। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে সাজেদা চৌধুরীর অবদান ভোলার নয়, পাশাপাশি আন্দোলনে অগ্নিকন্যা খেতাব পাওয়া মতিয়া চৌধুরীর আমলে কৃষিতে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। পাঠ্যবইয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের অবদানগুলোকে স্থান দেয়া হলে পূর্ণতা পেত। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিই প্রথম কোনো শিক্ষামন্ত্রী, যিনি নিজের মেয়াদাকালে পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছেন। জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের

(এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান  বলেন, সাজেদা চৌধুরী এখন আর নেই। এ কারণে তিনি পাঠ্যবইয়ে স্থান পাননি। মতিয়া চৌধুরী পাঠ্যবইয়ে আসতে পারতেন, কিন্তু কেন আসতে পারেননি তা ভেবে দেখা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠ্যবইয়ে স্থান দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টিই তো তার। কাজেই তাকে খুশি করার কিছু নেই। তবু শিক্ষামন্ত্রী আমাদের পাঠ্যবইয়ে ভুল চিহ্নিত করতে বলেছেন। আমরা সেই তালিকায় এই বিষয়টিও সংযোজন করব।

সপ্তম শ্রেণির ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন’ বইয়ের ১২৫ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার যে, মাত্রই ১৩০ বছর আগে আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীর অবস্থান ছিল শুধু অন্তঃপুরে। সেখানে আজ বাংলাদেশের সরকার পরিচালনাতেও নারীরা যোগ্যতার সঙ্গে ভূমিকা রাখছেন। যদিও এখনো বাংলাদেশের অনেক নারীই তাদের অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নারীর অবস্থার পরিবর্তনের এই ধারায় তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ আমরা এ রকমই কয়েকজন নারী নেতৃত্বের কথা আলোচনা করব। যারা দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ হাসিনা; ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি একজন মহীয়সী নারী। বাংলাদেশকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের হয়ে এসে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। তিনি জনকল্যাণমুখী ও মানবতাবাদী কাজের জন্য বহু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ : ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি, বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ স্পিকার হিসেবে সংসদে যোগ দিয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি জীবন, সর্বত্রই তিনি অত্যন্ত মেধার ছাপ রেখেছেন।

বইয়ের ১২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ডা. দীপু মনি এম.পি. মাননীয় মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডা. দীপু মনি এমপি। বর্তমানে তিনি দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যোগ্যতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি একাধারে একজন রাজনীতিবিদ, একজন চিকিৎসক এবং একজন আইনজীবী। এরপরে সমাজের বিভিন্ন পরিসরে নারীর অগ্রযাত্রা সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এসব বর্ণনায় প্রথম নারী ট্রেনচালক সালমা এসেছেন। এসেছেন কলসিন্ধুরের ফুটবল বালিকারা।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৪/২৩