সন্তানদের ঘরে ঠাঁই না হওয়া মাকে উদ্ধার করলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

পচাত্তর বছর বয়সী ছায়রন বেগম। ৩০ বছর আগে হারিয়েছেন স্বামীকে। অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে বড় করেছেন ৬ সন্তানকে। সন্তানেরা এখন সাবলম্বী, থাকেন পাকা ও আধাপাকা বাড়িতে। সেই সন্তানদের কাছে ঠাঁই হয়নি বয়সের ভারে ন্যুজ্ব ছায়রন বেগমের। তার বসবাসের ঠিকানা হয়েছে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ের পাশে গবাদি পশু ও মানুষের মলমূত্রের মধ্যে একটি ঝুপড়িতে।

বৃহস্পতিবার(২৬ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  কাফী বিন কবির ও  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ দুটি কম্বল, চাল, ডাল আলুসহ খাবার নিয়ে হাজির হন ছায়রন বেগমের বাড়িতে। তার কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। এরপর বৃদ্ধার বড় ছেলের পাকা ঘরের বারান্দায় তুলে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসার খবর পেয়েই বাড়িতে তালা দিয়ে সটকে পড়েন ছেলের বউরা। আগে থেকেই মাঠে কাজ করায় বাড়িতে ছিলেন না বৃদ্ধার ছেলেরা। এ সময় কাফী বিন কবির ছেলেদের বিচার করার কথা বলতেই কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা।

বৃদ্ধা ছায়রন বলেন, সকালে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্বর্পরাজপুর দাখিল মাদরাসার সুপার আম্মাদুল তাকে খাবার দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই খাবার ছাড়া দুপুর পর্যন্ত আর কিছু খাননি। তিনি ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন, ছেলে ও পুত্রবধূরা তাকে বাড়িতেই যেতে দেন না। মাঝেমাঝে খাবার দিয়ে যান। বিষয়টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাফী বিন কবির বলেন, খুবই অমানবিক ঘটনা। খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এরপর বাঁশঝাড়ের পাশে ময়লা আবর্জনার মধ্যে ঝুপড়ি ঘর থেকে ওই মাকে উদ্ধার করে গোসল করিয়েছি। এরপর তার বড় সন্তানের ঘরে তুলে দিয়েছি।  আমরা তাকে খাবার, হাত খরচের টাকা ও দুটি কম্বল দিয়েছি। তার ছেলেদের বাড়িতে পায়নি। আমার অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।