শ্রেষ্ঠ উপহারের তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ‘বই’

নিউজ ডেস্ক।।

একটা সময় ছিল যখন উপহার হিসেবে দেওয়া হতো বই। বিয়ে থেকে শুরু করে নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে বই-ই ছিল সেরা উপহার।

মানুষের মনোজগতকে পরিপূর্ণ সমৃদ্ধি দানে আজও বিকল্প নেই বইয়ের। মননশীল বই-ই পারে মানুষের সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা ও মনের বিকাশ ঘটাতে।
কিন্তু সময় পাল্টে যাচ্ছে। প্রযুক্তির এ ডিভাইস নির্ভর যুগে বই যেন শুধুই এক জড় পদার্থ! অথচ এ জড় পদার্থ বই-ই ছিল এক সময় মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু।

অর্থাৎ বই এখন আর মূল্যায়নের সে জায়গাটি দখল করে থাকতে পারছে না। এ যেন কবিগুরুর লিখিত সেই বিখ্যাত প্রবন্ধের শিরোনাম ‘সভ্যতার সংকট’।
প্রযুক্তি যতই দ্রুত গতিতে তার আধুনিকতার ছোঁয়ায় পরিপূর্ণ হোক না কেন, আজও তা বইয়ের চিরসুস্থ জায়গাটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি। কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে নানান বইয়ের গ্রুপে প্রবেশ করে প্রযুক্তি নির্ভর নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতেই হয়। প্রিয় বইটিকে আপন হাতে আগলে ধরে পড়ার যে পরমানন্দ তা ওই মোবাইলে বই পড়ার থেকে ঢেরগুণ বেশি।

বই পড়ার কথা বাদ দিয়ে এবার আসা যাক– বই উপহারের প্রসঙ্গে। মনে করা যাক, আপনি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত। সেক্ষেত্রে, খালি হাতে তো কিছুতে যাওয়া যাবে না। সাথে করে কিছু একটা নিয়ে যেতে তো হবে। সেক্ষেত্রে কি নির্বাচন করবেন? চোখ বন্ধ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ‘বই’। মহামূল্যবান বই।

তাতে আপনার মননশীলতা, রুচিবোধ, জ্ঞানের প্রতি সমর্থন, মার্জিত ভাবনা প্রভৃতি বিষয়গুলো প্রকাশ পাবে। কিছুটা হলেও পতনের হাত থেকে রক্ষা পাবে দেশের প্রকাশনা শিল্প। লেখকরা কিছুটা হলেও আগ্রহ পাবেন সৃষ্টিশীল নতুন কিছু বিনির্মাণে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য বলেন, বই জ্ঞান লাভের একটি বড় উপাদান। আমরা এখন জ্ঞান লাভের জন্য পড়ি না। পড়ি চাকরির জন্য। আমাদের দেশে যারা উচ্চ শিক্ষিত হয়েছে বা একটা পর্যায়ে গেছেন তারা হয়তো বইয়ের মূল্য বুঝেন, কিন্তু বাকিরা তো তা বোঝেন না।

বই উপহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ বই পেলে খুশি হন, কেউ শাড়ি বা অন্যান্য কাপড় পেলে খুশি হন। কেউবা আবার ঘরসজ্জার জিনিসপত্র পেলে খুশি হন। বই উপহার হিসেবে দিলেও পড়বে না অনেকে। কাজেই ইদানীং বিকল্প হিসেবে মানুষ অন্যকিছু উপহার দিচ্ছেন। তবে আমাদের স্লোগান থাকুক– উপহার হিসেবে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই, বই-ই শ্রেষ্ঠ।
মানুষ গড়ার কারিগর এ শিক্ষক বলেন, আমি কিন্তু বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে বই উপহার দিয়ে থাকি।