শেষ বলে হেরে গেল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক।।

শেষ ম্যাচেও জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে হেরে নিশ্চিত হয়ে গেল ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ। তবে গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শেষ ওভারে জমে উঠেছিল ম্যাচ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ বলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

বাংলাদেশের দেওয়া ১২৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় পাকিস্তান। ৩৮ বলে ৪৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়ে যান হায়দার আলি। সিরিজ সেরা হয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ রেজওয়ান।

কাল শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ৮ রান। ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ নিজেই বোলিং করতে আসেন। প্রথম বল ডট দেন। তারপর টানা দুই বলে দুই সেট ব্যাটসম্যান সরফরাজ আহমেদ ও হায়দার আলিকে আউট করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। কিন্তু চতুর্থ বলে দুর্দান্ত এক ছক্কায় ম্যাচ হাতের মুঠোয় নেন ইফতেখার আহমেদ। শেষ দুই বলে দুই রান দরকার।

কিন্তু আবারও পাকিস্তানের দুর্গে আঘাত হানেন মাহমুদুল্লাহ। ইফতেখারকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দিতে বাধ্য করেন। এরপর শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে উত্তেজনায় পানি ঢেলে দেন নেওয়াজ। হঠাৎ জেগে ওঠা স্বপ্নটা মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তবে শেষ বলে একটি বিতর্কও তৈরি হলো। কারণ, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে শেষের বলটি দুই বার করতে হয়েছে। প্রথম ডেলিভারিতে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নেন নেওয়াজ। বল গিয়ে লাগে স্ট্যাম্পে। আম্পায়ার বলটি ‘ডেট’ দেন। কিন্তু পরের বলে বাউন্ডারি হাঁকান নেওয়াজ। কেবলমাত্র শেষের ওভারটি বাদ দিলে কালকের ম্যাচে দুই দলের দুই ইনিংসই ছিল খুবই ম্যাড়ম্যাড়ে। ম্যাচ টি-২০ ফরম্যাটে হলেও মেজাজ ছিল টেস্টের।

ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের ৪৭ রানের পরও ১২৪ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ডট বলের ফাঁদে পড়েছিল স্বাগতিকরা। কাল ১২০ বলের মধ্যে ৫৮টি ডট। মজার বিষয় হচ্ছে এর মধ্যে ২২টি নাঈমের। ৫০ বল খেলেও তিনি হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করতে পারেননি। ক্রিকেটে একটি অঘোষিত নিয়ম হচ্ছে, যে ব্যাটসম্যান যেদিন উইকেটে সেট হয়ে যান তার ওপর থাকে বাড়তি দায়িত্ব। কিন্তু নাঈম শুরু করলেন কচ্ছপ গতিতে। যে পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বাউন্ডারি হাঁকানো তুলনামূলক সহজ, সেই প্রথম ছয় ওভারে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি।

এই ওপেনারকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি দলের জন্য নয় যেন কেবল নিজের জন্য খেলছেন! কারণ, টি-২০তে একজন ওপেনার যখন বেশি বল হজম করেন তখন অপরপ্রান্তের ব্যাটসম্যানের ওপর বেশি চাপ পড়ে যায়। আর দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তিনি আউট হয়ে যান। প্রসঙ্গ উঠতে পারে পাকিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ রেজওয়ানও রানের চেয়ে বল বেশি মোকাবিলা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশকে ১২৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর পাকিস্তানের তো আর কোনো চাপ ছিল না। তা ছাড়া এরপরই শুরু হচ্ছে টেস্ট সিরিজ। তাই এমন এক ম্যাচে যদি টেস্টের প্রস্তুতি নেওয়া যায় মন্দ কী! তাই রেজওয়ানের ইনিংস ও নাঈমের ইনিংস এক নয়।

কিন্তু বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানরাই বা কি করেছেন? স্লগ ওভারে পাওয়ার হিটার কেউ থাকলে আরও কিছু রান বেশি হতো। তখন হয়তো ম্যাচের চিত্রই পাল্টে যেত। তবে এই ম্যাচে বোলারদের দোষ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ব্যাটসম্যানরা তো লড়াইয়ের পুঁজিই এনে দিতে পারেননি।

বিশ্বকাপে ভরাডুবির এবার দেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ। টানা ৮টি টি-২০তে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। সামনেই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে হঠাৎ দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট। দেখা যাক, সাদা পোশাকের ভাগ্য বদলাতে পারেননি কিনা লাল-সবুজরা।