শেষ বলে এশিয়া কাপ জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১০ জুন ২১

অনলাইন ডেস্ক।।

কুয়ালালামপুরে টস হেরে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১১২ রান তোলে ভারত। জবাবে শেষ বলের নাটকীয়তায় জেতে বাংলাদেশ। এক বলে দুই রান প্রয়োজন ছিলো টাইগ্রেসদের। শেষ বলে দুই রান নিয়ে দলকে জয় এনে দেন জাহানারা আলম। সঙ্গে ছিলো সালমা খাতুন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে অনন্য এই মাইলফলক গড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। টাইগারদের ঐতিহাসিক সেই জয়ের দুই বছর পূর্তি আজ।

অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, অনন্য, কোন উপমাই যেন যথেষ্ট ছিলোনা জাহানারা-রুমানাদের এমন দুরন্ত জয়ে। ভারতের মত পরাক্রমশালী দলকে ব্যাক টু ব্যাক হারিয়ে এশিয়া কাপ ঘরে তুলে বাংলাদেশ। এর ছয় আসরের সবগুলোতে জিতে এশিয়াকাপ ট্রফিটা একরকম নিজেদের করে নিয়েছিলো ভারত। তিন উইকেটের দারুণ জয়ে সেখানে ভাগ বসায় বাংলাদেশ।

সেদিন টস জিতে সালমার ফিল্ডিংয়ের সাহসী সিদ্ধান্ত কে দারুণভাবে স্বাগত জানায় খাদিজা, জাহানারা আলমরা। ৭৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা ভারতে একা টেনে তোলেন হারমানপ্রীত কর। এ অধিনায়কের হাফ সেঞ্চুরিতে একশোর কোঠা পেরোয় আগের বিশ্বকাপের রানার্স আপরা।

১১৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুভসূচনা করেন দু বাংলাদেশ ওপেনার শামিমা আক্তার ও আয়েশা খাতুন। তবে ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গার পর সহজ ম্যাচটা কঠিন হয়ে যায় পুনম জাদবের ঘূর্ণী বলে। ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে ভারতকে জয়ের স্বপ্ন দেখান এ স্পিনার।

শেষ ওভারে দরকার ছিলো নয় রান। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে পেন্ডলামের মত দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্যটাকে আবারো নিজেদের দিকে টেনে নেন রুমানা। কিন্ত পরের দু বলে সানজিদা-রুমানার বিদায়ে ভর করে হতাশা।

শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। সাবেক অধিনায়ক জাহানারা হতাশ করেননি, হারেনি ৫৬ হাজার বর্গমাইল। এশিয়া কাপে পুরুষদের দুঃখটা ঘুচিয়েছিল নারীরা ।

সঙ্গে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ২১ বছর আগে ফিরে যাওয়া। আবারো একখণ্ড বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল কুয়ালালামপুর। আইসিসি ট্রফি জিতে যেখানে সূচনা হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়ের। বদলে গিয়েছিলো দেশের ক্রিকেটের গতিপথ। এশিয়া কাপে এমন শিরোপা জয়ে নিশ্চয়ই নারী ক্রিকেটের ভঙ্গুর দৃশ্যপটেও আসে পরিবর্তন। যদিও বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা বিশ্বকাপে দেখাতে পারেনি নিজেদের শক্তিমত্তা। তবে ভবিষ্যতে ভালে কিছু করে দেখাবে সেই প্রত্যাশা কোটি টাইগার ভক্তদের।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.