শিশু সুরক্ষায় যত্নশীল হওয়া প্রয়োজনঃ ইউনিসেফ

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৫ নভেম্বর ২০

অনলাইন ডেস্ক ঃ
এতদিন এমন ধারণা বিরাজ করছিল- করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে শিশুরা অনেকটাই নিরাপদ। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত ইউনিসেফের প্রতিবেদনে ধারণাটিকে ভুল বলা হয়েছে। বিশ্বের ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি ইউনিসেফের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু।

এ পরিস্থিতি পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টিসহ সামগ্রিক কল্যাণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাভাইরাসজনিত সংকট যত দীর্ঘ হবে; শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিসহ সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হবে।

অর্থাৎ বলা চলে পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষার উপায় ও কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

প্রায় ৯ মাস ধরে দেশে করোনা মহামারী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে শীত মৌসুম চলে আসায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শীত মৌসুমে দৈনিক ৫ হাজার মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

সমস্যা হল, শীতজনিত রোগ ও করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ ও উপসর্গ প্রায় কাছাকাছি। এর ফলে আক্রান্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। কোনো রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, নাকি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত- এ জটিলতা নিরসনের জন্য অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করা যেমন আবশ্যক, তেমনি শীতজনিত রোগগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থাও জোরদার করা দরকার।

বস্তুত শীত মৌসুমে সমন্বিতভাবে করোনা ও শীতজনিত রোগ মোকাবেলা করা জরুরি।

দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সরকারি নির্দেশে সাধারণ ছুটির আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোই একমাত্র চালিকাশক্তি নয়; বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুলের বাইরে থেকেও শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে তো বটেই, এমন কী বড়দের মধ্যেও তারা ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে- হাঁচি-কাশিরত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়া ও মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুদের বিড়াল, কবুতর, কুকুর ইত্যাদি পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে।

বস্তুত শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। সতকর্তা অবলম্বন, সঠিক স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের সুস্থ-সুন্দর-নিরাপদ জীবন গড়ে তুলতে সরকার এবং পরিবারগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা।

শিক্ষাবার্তা/ বিআ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.